Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ই-কেওয়াইসি ছাড়া আর ১৪.২ কেজি গ্যাস নয়, এফটিএল  স্কিমে অত্যন্ত চড়া দামে কিনতে হবে ১০ কিলোর সিলিন্ডার

রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি এখনো যাঁদের বাকি, তাঁরা যে আর কোনোরকম ভরতুকি পাবেন না, তা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্র।

ই-কেওয়াইসি ছাড়া আর ১৪.২ কেজি গ্যাস নয়, এফটিএল  স্কিমে অত্যন্ত চড়া দামে কিনতে হবে ১০ কিলোর সিলিন্ডার
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি এখনো যাঁদের বাকি, তাঁরা যে আর কোনোরকম ভরতুকি পাবেন না, তা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্র। পাশাপাশি মোদি সরকার ঘোষণা করেছিল, যাঁরা ই-কেওয়াইসি না-করে ভরতুকি ছাড়া সিলিন্ডার নিতে চান, তাঁরা পাবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়েছে, গৃহস্থের জন্য বরাদ্দ ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার তাঁরা আর পাবেন না। তাঁদের জন্য ১০ কেজির সিলিন্ডার বরাদ্দ করা হবে। তা কিনতে হবে বাজার দরে, যার সরকারি নাম ফ্রি ট্রেড এলপিজি বা এফটিএল। কিন্তু চাইলেই তা মিলবে না। একেবারে নতুন সংযোগের জন্য গ্রাহককে আবেদন করতে হবে। তারপরই মিলবে সিলিন্ডার। 

Advertisement

নতুন সংযোগের জন্য গ্রাহককে খরচ করতে হবে প্রায় ৪,৮০০ টাকা! এরপর প্রতি সিলিন্ডার রিফিলিংয়ের জন্যও চড়া মূল্য চোকাতে হবে। তার দাম চলতি মাসে কলকাতায় ১,৬২৪ টাকা। এদিকে সাধারণ ১৪.২ কেজির গৃহস্থের সিলিন্ডারের দর কলকাতায় ৯৬৮ টাকা হলেও এক্ষেত্রে ১০ কেজির দরই তার চেয়ে অনেকটা বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দাবি, এই সিলিন্ডারে কোনো ভরতুকি নেই। তা গ্রাহককে কিনতে হবে বাজার দরেই। প্রসঙ্গত, এখনো ই-কেওয়াইসি করাননি, এমন গ্রাহকের সংখ্যা দেশে তিন কোটির বেশি। তেল সংস্থা সূত্রের খবর, যাঁরা আগামীদিনে ই-কেওয়াইসি সপন্ন করবেন, তাঁরা ফের গৃহস্থের দরেই সিলিন্ডার পাবেন।
যাঁরা রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি এখনো সম্পন্ন করেননি, তাঁদের গ্যাস সংযোগ ‘ব্লক’ করার নির্দেশ আগেই দেয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। গত দুবছরের বেশি সময় ধরে ই-কেওয়াইসিতে জোর দেওয়ার পরও বহু গ্রাহক তা বাকি রাখায় এই সিদ্ধান্ত বলে জানায় কেন্দ্র। তাঁরা যতক্ষণ না ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ করছেন, ততক্ষণ গ্যাস সংযোগটি চালু থাকবে না। সরকার জানায়, যদি কেউ তারপরও সিলিন্ডার চান, তাহলে তিনি তা পাবেন বাজার দরে। সূত্রের খবর, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গ্রাহককে নতুন সংযোগ নিতে হবে এবং তারপরই ভরতুকিবিহীন দরে তাঁকে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে। 
এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের ধারণা, আগামী মাস, অর্থাৎ অক্টোবরেই এই নিয়ম চালু করতে পারে কেন্দ্র। তবে গ্রাহককে যখন ভরতুকিবিহীন সিলিন্ডার কিনতেই হবে, তিনি কেন সরাসরি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার কেনার সুযোগ পাবেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের যে বাজার দর, তাতে ১০ কিলো ওজনের এলপিজির দাম দেড় হাজার টাকার আশপাশে। প্রশ্ন, তারপরও গ্রাহককে বেশি দামে এফটিএল নিতে বাধ্য করা হবে কেন? তাছাড়া ডিস্ট্রিবিউটররা একসঙ্গে অনেক সংখ্যক বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে, তেল সংস্থার তরফে তাঁদের ডিসকাউন্ট বা ছাড় মেলে। অনেক ক্ষেত্রে  সেই ছাড়ের সুবিধা ডিস্ট্রিবিউটররা তাঁদের গ্রাহকদেরও দেন। অর্থাৎ সরকার ঘোষিত দামের উপরও ছাড় পান বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের গ্রাহকরা। এক্ষেত্রেও তাঁরা আরও কম দামে সিলিন্ডার পেতে পারেন। এছাড়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্যাস সংযোগ ছেড়ে দিলে বা সারেন্ডার করলে, টাকা ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু এফটিএলের জন্য কোনো স্বচ্ছ নীতি ঘোষিত হয়নি। যদি কেউ ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করে ফের পুরানো সংযোগটি চালু করেন, তাহলে নতুন গ্যাস সংযোগটির পরিণতি কী হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ