বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই রান্নার গ্যাসের সংকট কাটারও কোনো সম্ভাবনা নেই আপাতত। পেট্রল বা ডিজেলের ক্ষেত্রে বিকল্প রাস্তা খোলা থাকলেও রান্নার গ্যাসের জন্য ভরসা মূলত হরমুজ প্রণালী, যা এখনও কার্যত অবরুদ্ধ। গ্যাস পরিবহণকারী কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে আরও খারাপ দিন আসতে চলেছে! গৃহস্থের সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে সিলিন্ডারগুলিতে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। পাশাপাশি, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের যেটুকু সুরাহা মিলছিল, তাও আগামী দিনে মিলবে না বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমানো হলেও কেন্দ্র বুকিংয়ের নিয়ম অপরিবর্তিত রাখবে, আপাতত এমনটাই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১৫ দিন, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের যে সীমারেখা রয়েছে, তাতে কোনো বদল আসছে না। এর অর্থ, যেভাবেই হোক গৃহস্থকে গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বাধ্য করা হবে।
বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থের সিলিন্ডার মিলিয়ে যে পরিমাণ এলপিজি ভারতে ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য নির্ভর করতে হয় হরমুজ প্রণালী হয়ে আসা আমদানির উপর। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে ১০০ শতাংশ জোগান অব্যাহত রাখা অসম্ভব। দেশে মজুত থাকা এলপিজির ভাঁড়ারে ইতিমধ্যে টান পড়েছে। ফলে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছেই। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সিলিন্ডারে গ্যাসের ওজন কমানো হবে। ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারে যেমন সাত থেকে দশ কেজি গ্যাস দেওয়া হবে, তেমনই ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারে দেওয়া হবে প্রায় পাঁচ কেজি গ্যাস। ওজনের ভিত্তিতে ঠিক হবে দাম। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এর মধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম আরও এক দফা বাড়াতে পারে কেন্দ্র।
গ্যাসের বুকিং ও ডেলিভারি নিয়ে অবশ্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত। নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে বুকিং হলো কি না, বোঝা যাচ্ছে না। আবার বুকিং করে রেফারেন্স নম্বর পেলেও ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ডিএসি পাচ্ছেন না অনেকে। ডিস্ট্রিবিউটরদের অবশ্য দাবি, গ্রাহক যদি একবার ডিএসি পান, তাহলে শীঘ্রই সিলিন্ডার পেয়ে যাবেন। তবে ডিএসি জেনারেট হবে কি না, তা ডিস্ট্রিবিউটরের উপর নির্ভর করছে না। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে তেল সংস্থাগুলি। শনিবার অবশ্য পেট্রলিয়াম মন্ত্রক ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশ করা হবে। তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ফের অচলাবস্থা শুরু হতে পারে যে-কোনো সময়। আগামী সপ্তাহে এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।