Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘জল জীবন মিশন’-এর টাকা মেলেনি, আবাসেও অব্যাহত বঞ্চনা

বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও একবার মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটালেন বলে অভিযোগ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের।

‘জল জীবন মিশন’-এর টাকা মেলেনি, আবাসেও অব্যাহত বঞ্চনা
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও একবার মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটালেন বলে অভিযোগ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের। শুক্রবার দুর্গাপুরের সভা থেকে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ, কোনও কারণ ছাড়াই ২০২৪ সাল থেকে এই প্রকল্পের এক টাকাও দেয়নি তারা। শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই এই খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রাজ্যের। তা নিয়ে এদিন একটি বাক্যও খরচ করেননি মোদি। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করছেন। তাছাড়া, সারা দেশে সর্বাধিক বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নিরিখে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের পরেই রয়েছে বাংলা। এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, ‘এটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। যা কাজ হচ্ছে, সবটাই রাজ্যের কোষাগার থেকে  খরচ করে। বাংলায় এসে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’ দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ‘জল জীবন মিশন’ (পশ্চিমবঙ্গে ‘জলস্বপ্ন’) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এক বছর পর। তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ৯৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৯৬টি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের এই উদ্যোগকে উপেক্ষা করে শুধু রাজনীতির স্বার্থে বাংলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না বলে তোপ দেগেছেন পুলকবাবু। 

Advertisement

এরাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় হয় বলে অভিযোগ করে মোদি এদিন বলেন, ‘কয়েকটি রাজ্যে প্রত্যেক বাড়িতে জলের কল লেগে গিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটিও জেলা নেই, যেখানে ১০০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ সম্ভব হয়েছে। আমরা চার কোটি গরিব মানুষকে পিএম আবাস যোজনার অধীনে বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক দরিদ্র পরিবার পাকা বাড়ি পায়নি।’ কিন্তু বাস্তব হল, ‘জলস্বপ্ন’র মতো আবাস প্রকল্পেও বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য দেয়নি মোদি সরকার। ‘আবাস সফ্ট’-এর আওতায় ১১ লক্ষের বাড়ি তৈরির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েও কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে রাজ্য সরকার নিজেদের খরচে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেছে। এই সূত্রেই মোদির ভাষণের কড়া সমালোচনা করেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারও। তিনি বলেন, ‘উনি আজকে হঠাৎ চার কোটির কথা বলছেন। কিন্তু উনি তো নিজেই ২০২২ সালের ১৫ আগষ্টের মধ্যে দেশের সব গরিব মানুষের মাথায় ছাদের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার কী হল? আসলে এবারও তিনি বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে স্রেফ মিথ্যাচার করে গেলেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ