Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইতিহাসে ঝোঁক নেই, মিউজিয়ামে ভিজিটর টানতে ক্যাফে, ওয়াইফাই

থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রাচীন শিলালিপি থেকে পাল, সেন যুগের স্থাপত্য। রয়েছে কয়েকশো বছর আগে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন দেব-দেবীর পাথরের মূর্তি

ইতিহাসে ঝোঁক নেই, মিউজিয়ামে ভিজিটর টানতে ক্যাফে, ওয়াইফাই
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রাচীন শিলালিপি থেকে পাল, সেন যুগের স্থাপত্য। রয়েছে কয়েকশো বছর আগে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন দেব-দেবীর পাথরের মূর্তি। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি ঝোঁক নেই। ফলে ইংলিশবাজার শহরে সরকারি মিউজিয়ামে সেই অর্থে খুব বেশি মানুষের পা পড়ে না। এই পরিস্থিতিতে ভিজিটর টানতে এবার মিউজিয়ামের ‘লুক’ বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদহ জেলা প্রশাসন। নজর কাড়তে মিউজিয়ামের বাইরে ও ভিতরের দেওয়ালে আঁকা হচ্ছে ছবি। সেইসঙ্গে মালদহের ঐতিহ্য গম্ভীরা মুখোশ কিংবা বাঁশের তৈরি নৌকার মতো সামগ্রী রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া মিউজিয়ামে এসে ভিজিটর যাতে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য তৈরি করা হচ্ছে ক্যাফে। সেখানে থাকবে ফ্রি ওয়াইফাই। 

Advertisement

তবে এতকিছুর পরও মানুষজনকে বিশেষ করে পড়ুয়াদের মিউজিয়ামমুখী করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে কিন্তু সংশয় কাটছে না। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, জেলা প্রশাসন যেখানে মালদহ মিউজিয়ামে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহশালায় কিউরেটর না থাকলেও ওই পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না কেন? কারণ, কিউরেটর না থাকায় সংগ্রহশালায় থাকা বিভিন্ন সামগ্রী সম্পর্কে ভিজিটরদের বোঝানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে মহকুমা শাসকের অফিস থেকে একজন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এসে মিউজিয়ামের দরজা খুলে কার্যত চুপচাপ বসে থাকেন। মাঝেমধ্যে এক-দু’জন ভিজিটর এলে তাঁরা নিজেদের মতো সংগ্রহশালা ঘুরে দেখে চলে যান। কিউরেটর না থাকায় সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়া অমূল্য স্থাপত্য, শিলালিপি কিংবা পাথরের মূর্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন তাঁরা। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ বলেন, জেলাশাসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংগ্রহশালাটি জনপ্ৰিয় করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
ইতিমধ্যেই সংগ্রহশালার বাইরে ও ভিতরের দেওয়ালে শুরু হয়েছে ছবি আঁকার কাজ। এমনিতে মিউজিয়ামে যেসব স্থাপত্য, মূর্তি কিংবা শিলালিপি রয়েছে, সেগুলির বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মিউজিয়ামে যাতে বেশি সংখ্যক ভিজিটর আসেন, সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, জেলায় যেসব সামগ্রী নিয়ে গর্ব রয়েছে, যেমন গম্ভীরা মুখোশ, বাঁশের তৈরি নৌকা, সেসবও রাখা হবে। একইসঙ্গে ভিজিটর যাতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান, লোকশিল্প ও হস্তশিল্প সামগ্রী দেখার পাশাপাশি মিউজিয়ামে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য আমরা একটি ক্যাফেটেরিয়া এবং সেখানে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করছি। কিউরেটর নিয়োগের বিষয়েও জেলা প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বলা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ