সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: জানুয়ারিতে বোর্ড মিটিংয়ে শহরের প্রধান তিনটি ব্যস্ত রাস্তায় ডিজিটাল স্বাগতম গেট বসানোর প্রস্তাব নিয়েছিল পুরসভা। কিন্তু ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রস্তাব নেওয়াই সার। তিন মাস কেটে যাওয়ার পরেও ওই গেট বসানোর কাজ নিয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার কোনও উচ্চবাচ্য নেই বলে অভিযোগ। বিরোধীরাও পুরসভার এই প্রস্তাব নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। যদিও পুরসভার সাফাই, চলতি মাসেই এই কাজের টেন্ডার ডাকা হচ্ছে।
পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি শান্তনু দেবনাথ বলেন, তৃণমূলের এই পুরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে শুধু কাজের প্রস্তাব নেয়। কিন্তু পরে সেই প্রস্তাব ঠান্ডা ঘরে চলে যায়। কাজ হয় না। আমরা নিশ্চিত তৃণমূলের পুরসভার অপদার্থতার কারণে শহরে এই গেট বসানোর প্রস্তাবেরও একই হাল হবে। যদিও বিরোধীদের কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, বিরোধীদের কাজই হল উন্নয়ন কাজের সমালোচনা করা। চলতি মাসেই শহরের তিনটি রাস্তায় এই স্বাগতম গেট বসানোর কাজের টেন্ডার ডাকা হচ্ছে। এই কাজের জন্য পুরসভার অর্থের কোনও অভাব হবে না। শহরের তিনটি রাস্তায় এই স্বাগতম গেট বসাতে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হবে। আলিপুরদুয়ার পর্যটনের শহর। শহরের লাইফ লাইন বক্সা ফিডার রোড। তারপরেই রয়েছে আলিপুরদুয়ার-কুমারগ্রামদুয়ার ও আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার রোড। ওই তিনটি রাস্তায় শহরের সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে ও পর্যটকদের স্বাগত জানাতেই পুরসভা এই স্বাগতম গেট বসাতে চায়। ওই গেটগুলি হবে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক ও আলোকজ্জ্বল ডিজিটাল গেট। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্সা ফিডার রোডের দমকল মোড় আলিপুরদুয়ার-কুমারগ্রামদুয়ার রোডের শোভাগঞ্জ এলাকা ও আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার রোডের কালজানি সেতুর আগে এই গেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। কিন্তু পুরসভা সাফাই দিলেও কবে এই গেট তৈরির কাজ হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। শহরের বাইরে কালজানি সেতুর ওপারে পঞ্চায়েত এলাকায় আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার রাস্তায় আলিপুরদুয়ার শহরের ১২৫ বছর বর্ষপূর্তিতে একটি স্বাগতম তোরণ তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন আরএসপি বিধায়ক নির্মল দাসের বিধায়ক তহবিলে এই গেট তৈরি হয়েছিল। এবার পুরসভা শহরের মধ্যে কালজানি সেতুর এপারে আরও একটি গেট তৈরির প্রস্তাব নিয়েছে।