‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক মহিলাকে এখনই পুশব্যাক নয়: হাইকোর্ট, দিতে হবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশি সন্দেহে আটক এক মহিলা ও তাঁর দুই নাবালিকা মেয়েকে এখনই পুশব্যাকে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। স্ত্রী ও সন্তানদের বাংলাদেশে পুশব্যাক না করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কোচবিহারের বাসিন্দা বছর ৩০-এর লেবু মিয়াঁ। বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক করা হলেও ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ, লেবু মিয়াঁর স্ত্রী ও তাঁর দুই নাবালিকা সন্তানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করতে হবে। আইন মেনে তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের এবং বিচার প্রক্রিয়া চালাতে হবে এবং মামলাকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। লেবুর আইনজীবী অনিন্দ্য ঘোষ দাবি করেন, গত ২১ অক্টোবর লেবুর স্ত্রী ও তাঁর দুই সন্তান কোচবিহারের চ্যাংড়াবান্ধা সীমানা দিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ভিসা ছিল। দম্পতির দুই শিশুসন্তান কোচবিহারের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের জন্মের শংসাপত্রও রয়েছে।

Advertisement

এতকিছু নথি সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে এবং ওই দিনই তাঁদের দিনহাটা পুরসভার ‘আপন ঘর’ ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের লোক সাতদিন পর, ২৮ অক্টোবর পুরো বিষয়টি জানতে পারে। আরও অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের না করেই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এমনকি নিম্ন আদালতেও তাঁদের পেশ করা হয়নি। অথচ তাঁদের বারবার বাংলাদেশের পুশব্যক করার কথা জানানো হচ্ছে।
রাজ্যের তরফে আইনজীবী জানান, লেবু মিয়াঁর স্ত্রী বাংলাদেশি। তিনি লেবু মিয়াঁকে বিবাহ করেছেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে ডিটেনশন ক্যাম্পে কেন রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। তারপরই তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে যাবতীয় নির্দেশ দেয় আদালত।