নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কম্পিউটার সায়েন্স। হিন্দি। সোশ্যাল ওয়ার্ক। সংস্কৃত। উল্লিখিত বিষয়গুলিতে অধ্যাপক, সহায়ক অধ্যাপকের বহু পদে সংশ্লিষ্ট ক্যাটিগরিতে ঠিকমতো ‘যোগ্য’ প্রার্থীই পাচ্ছে না ‘হাই প্রোফাইল’ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। এসংক্রান্ত সিলেকশন কমিটির বৈঠকের নথিতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই গোটা বিষয়টিতে চোখ কপালে উঠেছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের।
ওই পদগুলির কোনওটি আর্থিকভাবে অনগ্রসর (ইডব্লুএস বা ইকনমিক্যালি উইকার সেকশন) ক্যাটিগরির। কোনওটি আবার ওবিসি কিংবা তফসিলি জাতি, উপজাতি ক্যাটিগরির। এমনকী জেনারেলও। কয়েকটি বিশেষ ক্যাটিগরিতে ‘যোগ্য’ অধ্যাপক কিংবা সহায়ক খুঁজে পেতে কেন এভাবে রীতিমতো হিমশিম খেতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ। যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি কর্তৃপক্ষ। যদিও তবে সূত্রের খবর, এর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকত্ব নেই। ফের ওই প্রক্রিয়া হবে।
সিলেকশন কমিটির সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যাচ্ছে যে, কম্পিউটার সায়েন্সের জন্য একটি ‘ইডব্লুএস ক্যাটিগরি’র কোটা রয়েছে। সেই পদে যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার হিন্দির ক্ষেত্রে ওবিসি এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ক্যাটিগরির একটি করে কোটা রয়েছে। এক্ষেত্রে একই কথা জানানো হয়েছে। এমনকী এক্ষেত্রে পরপর দু’টো সিলেকশন কমিটির বৈঠকেই ‘যোগ্য’ কাউকে খুঁজে পায়নি কর্তৃপক্ষ। সোশ্যাল ওয়ার্কে এসসি, এসটি এবং ইডব্লুএসের একটি করে কোটা রয়েছে। কোনওটিতেই যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি। ওবিসির দু’টো কোটার মধ্যে যোগ্য প্রার্থী মিলেছে একটিতে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সিলেকশন কমিটির বৈঠকে ওবিসি ক্যাটিগরিতে কোনও প্রার্থী হাজিরই হননি। সংস্কৃতে একটি জেনারেল ক্যাটিগরিতে প্রার্থী ‘অমিল’। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের ক্যাটিগরিতে এক্ষেত্রে ‘যোগ্য’ প্রার্থী পায়নি কর্তৃপক্ষ। একাধিক ক্যাটিগরিতে ‘ওয়েটলিস্টেড’ প্রার্থীও আছেন। প্রসঙ্গত, এই সংক্রান্ত সিলেকশন কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরের মধ্যেই। গত জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই উপাচার্য অধ্যাপক যোগেশ সিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। সংগঠনের এগজিকিউটিভ সদস্য আভা দেব হাবিবের অভিযোগ, এটি একটি বেনজির ঘটনা।