সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সদ্য পেশ হওয়া বাজেটে রেলের খাতে রাজ্যের জন্য ১৪২৫ কোটি অর্থ বরাদ্দ করা হলেও থমকে থাকা আমতা-বাগনান রেলপথের জন্য কোনো বরাদ্দ হল না। ফলে শিলান্যাসের পর ১৬ বছর কেটে গেলেও এই প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কার্যত হতাশ দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা। বাগনানের বিধায়ক তথা তৃণমূলের হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি অরুণাভ সেনের দাবি, দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ করা হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া খড়্গপুর শাখার যাত্রীদের সুবিধার জন্য ১৯৮০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী গনি খান চৌধুরী আমতা-বাগনান রেল প্রকল্পের উদ্যোগ নেন। পরে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল প্রকল্পটি শুরু করার উদ্যোগ নেন। সেইমত ২০০৯-’১০ সালে রেলদপ্তর প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি আমতায় এই প্রকল্পের শিল্যান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রাথমিকভাবে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের জন্য ১৬৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। ঠিক হয়, জমিদাতাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াও পরিবার পিছু একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। যদিও এরপর বাগনানের ভগবতীপুর এলাকায় দামোদরের দু’দিকে আটটি পিলার ছাড়া আর কিছুই হয়নি। বুধবার ভগবতীপুর এলাকার বাসিন্দাদের রেল প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করলে এক প্রবীণ বলেন, আজ সেই দিন। ২০১০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনেই রেলপথের শিল্যান্যাস করেছিলেন। আমরা প্রতি বছর কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু কোনোবারই অর্থ বরাদ্দ হয় না। এবারেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আমরা আমতা-বাগনান রেলপথের আশা ছেড়েই দিয়েছি, বলছেন বাসিন্দারা। অরুণাভ সেন বলেন, বাজেটে রাজ্যের জন্য রেলের খাতে যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বাংলায় বিজেপির কোনো সুযোগ নেই বলেই বাজেটে বাংলাকে বঞ্চনা করা হয়েছে বলে দাবি
করেন তিনি। নিজস্ব চিত্র