Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোর্ট লক-আপে বাড়তি আপ্যায়ন নেই, জেলের খাবার রুচছে না প্রাক্তন ডিসি’র

জেলের খাবার মুখে রুচছে না ইডির হাতে ধৃত কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। শুধু তাই নয়, তাঁর কোনো আবদারকেই পাত্তা দিচ্ছেন না কারারক্ষীরা।

কোর্ট লক-আপে বাড়তি আপ্যায়ন নেই, জেলের খাবার রুচছে না প্রাক্তন ডিসি’র
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা; জেলের খাবার মুখে রুচছে না ইডির হাতে ধৃত কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। শুধু তাই নয়, তাঁর কোনো আবদারকেই পাত্তা দিচ্ছেন না কারারক্ষীরা। প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আর পাঁচটা বন্দি যেমন সংশোধনাগারে থাকেন সেভাবেই তাঁকে জেল হেপাজতে কাটাতে হবে। কোনো বাড়তি আবদার মেটানো সম্ভব নয়। তাঁকে মুখের ওপর জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এরপর যেন কোনোরকম আবদার‑অনুরোধ না করা হয়। সূত্রের খবর, কদিন আগে কারারক্ষীরা সেল পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, একসময়ের প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্তা অসহায়ভাবে নিজের সেলের ভিতর পায়চারি করছেন। তাঁর দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। যদিও তা দেখে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে সেখান থেকে চলে যান জেলের কর্মীরা।

Advertisement

শুধু জেলই নয়, মামলার শুনানির দিনে কলকাতার বিচারভবনের কোর্ট লকআপেও এই পুলিশ কর্তাকে আর পাঁচটা বন্দির মতোই রাখা হচ্ছে। সেখানেও কোনো বাড়তি খাতির করছেন না লকআপের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। আর পাঁচটা বন্দির মতোই গুনতি করে এই অভিযুক্তকে লকআপে প্রবেশ করানো হচ্ছে। কদিন আগে জেলের গাড়িতে ওঠানোর সময় তাঁকে গুনতি করেই ওঠানো হয়। তাঁর দু’গাল দিয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছিল। আর একই কায়দায় পাঁচটা বন্দির মতো তাঁকে ছোটো গেট দিয়ে মাথা নিচু করে জেলে প্রবেশ করতে হয়। কোর্টের লকআপে এই দৃশ্য দেখে এক পুলিশকর্মীর সহাস্য মন্তব্য,  চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়।
কদিন আগে জেলে দুপুরের খাবারের মেনুতে ছিল ছিল ভাত, পাতলা ডাল, দু-তিনরকম সব্জি দিয়ে একটা তরকারি, ডিমের ঝোল। অন্যান্য বন্দির মতো সেই খাবার তাঁকেও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই খাবার একটু মুখে দিয়েই তা সরিয়ে রাখেন। কদিন রাতেও ঠিক মতো জেলের খাবার তাঁর পছন্দ হচ্ছে না। অভিযোগ একসময় তাঁকে অনেক পুলিশ অফিসার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ‘স্যার’ স্যার’ বলে দিবারাত্রি সম্বোধন করতেন। রাতারাতি সেই দৃশ্য বদলে গিয়েছে। শুনানির দিনও কোনো নিচুতলার পুলিশকর্মী একবারও তাঁকে স্যার বলে ডাকেননি। প্রসঙ্গত কসবার প্রমোটার সোনা পাপ্পুকে কিছুদিন আগে পাকড়াও করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে কম দামে ভয় দেখিয়ে জলের দরে অন্যের জমি হস্তগত করার অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলাতে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ব্যবসায়ী জয় কামদার। ইডির অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে যোগ ছিল এই পুলিশ কর্তার। এরপরই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। সেই মামলাতেই তিনি জেল হেপাজতে আছেন।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ