Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সকালের ডিউটিতে চিকিৎসক নেই হাসপাতালে, রোগী দেখলেন সুপার

হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব। সেই কারণে বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ পরিষেবা বন্ধ থাকল বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

সকালের ডিউটিতে চিকিৎসক নেই  হাসপাতালে, রোগী দেখলেন সুপার
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব। সেই কারণে বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ পরিষেবা বন্ধ থাকল বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের সুপার নিজে রোগী দেখা শুরু করেন। ঘটনার জেরে রোগীর পরিজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। 

Advertisement

৫০ শয্যার বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সুপার ছাড়াও পাঁচজন চিকিৎসক আছেন। একজন চিকিৎসক মঙ্গলবার রাত থেকে ডিউটি করার পর বুধবার সকালে চলে যান। কিন্তু বুধবার সকালে যে চিকিৎসকের ডিউটি করার কথা, অসুস্থতার কারণে তিনি আসেননি। দুই সিনিয়ার ডাক্তার অনুপস্থিত ছিলেন। অন্য এক চিকিৎসকের ছুটি থাকায় বুধবার সকাল থেকেই চিকিৎসক শূন্য হয়ে পড়ে হাসপাতাল। 
ফলে বুধবার সকালে আউটডোরে পরিষেবা নিতে আসা রোগীরা সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরে হাসপাতালের সুপার শচীন্দ্রনাথ রজক নিজে আউটডোরের পাশাপাশি ইনডোরে রোগী দেখে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাউড়িয়া স্টেট জেনালের হাসপাতালের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এটা নামেই হাসপাতাল। কিন্তু সেভাবে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না। এমনকী দু’মাস আগেও একইরকম চিকিৎসকের সমস্যা হয়েছিল এই হাসপাতালে। অবিলম্বে হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উলুবেড়িয়া পুরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সাহিনা বেগম জানান, হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে একাধিকবার উলুবেড়িয়া পুরসভার পুরপ্রধান, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে প্রশাসনের সর্বস্তরে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। বুধবারও তারই ফল ভুগতে হয়েছে। 
হাসপাতালের সুপার শচীন্দ্রনাথ রজক জানান, হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসক ছাড়াও দু’জন সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন। সেই দু’জন সিনিয়র চিকিৎসক না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক বিদেশ বসু জানান, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত জানান, হাসপাতালে পাঁচ চিকিৎসক থাকলেও দু’জন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক এবং একজন হাসপাতালকে না জানিয়ে অনুপস্থিত থাকায় এই বিপত্তি। আপাতত একজন চিকিৎসককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ