Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

মিলবে না ডিসকাউন্ট, এবার বাড়তি দরে রুশ তেল কিনতে হবে ভারতকে

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উপর জারি হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। সেই ‘সুযোগে’ রুশ তেলের দামে বড়ো ছাড় পেয়েছিল ভারত। যদিও সেই ‘সুদিন’ পেরিয়ে ইরান যুদ্ধ নয়াদিল্লির জন্য বড়ো ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল।

মিলবে না ডিসকাউন্ট, এবার বাড়তি দরে রুশ তেল কিনতে হবে ভারতকে
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উপর জারি হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। সেই ‘সুযোগে’ রুশ তেলের দামে বড়ো ছাড় পেয়েছিল ভারত। যদিও সেই ‘সুদিন’ পেরিয়ে ইরান যুদ্ধ নয়াদিল্লির জন্য বড়ো ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল। অশান্ত পশ্চিম এশিয়া ও অস্থির হরমুজ প্রণালী এমনিতেই ভারতকে জ্বালানি ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে মোদি সরকারকে আপাতত ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে আমেরিকা। দেশের তেল বাণিজ্য কেন মার্কিন নির্দেশে চলবে, এই প্রশ্ন তুলে সোচ্চার বিরোধীরা। তারই মধ্যে এবার রুশ তেল ক্রয় নিয়েও নয়া বিপত্তি। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংকটের এই মুহূর্তে রুশ তেলের দামে পুরনো ডিসকাউন্ট বা ছাড় মিলবে না। বরং তার বদলে ‘আকালের কিস্তি’ চাপিয়েছে রুশ রপ্তানিকারীরা। ফলে রাশিয়ার যে তেল এতদিন সস্তায় পেত ভারত, সেটাই এখন কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। তেলের বাজারদরের আন্তর্জাতিক মাপকাঠি ব্রেন্ট ক্রুড। রাশিয়ার তেল কিনতে এবার সেই বাজারদরের থেকেও বাড়তি কড়ি খরচ করতে হবে নয়াদিল্লিকে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে রুশ তেল কিনতে ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার বেশি দাম পড়বে। 

Advertisement

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া রাশিয়া ভারতকে আন্তর্জাতিক দরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ১৫ থেকে ৩০ ডলার সস্তায় তেল বিক্রি করেছে। রুশ তেল কেনার কারণে যে আমেরিকা ‘জরিমানা’ হিসাবে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছিল।  বাণিজ্য চুক্তির আবহে বর্তমানে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন ইরান সংকটের কারণে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার ছাড় দিয়েছে আমেরিকা। তবে তাতে লাভের বদলে বরং ভারতকে এখন বাড়তি মূল্যে রাশিয়ার তেল কিনতে হচ্ছে। 
উপসাগরীয় অঞ্চলের ১৪ লক্ষ ব্যারেল তেল ট্রানজিটে আটকে। তার ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে এখন ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়ে ফের রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। সেই ‘সুযোগ’ই কাজে লাগিয়ে দাম চড়িয়েছে রাশিয়া। বাল্টিক সমুদ্রবন্দরগুলিতে দাম সামান্য কম থাকলেও ভারতের পশ্চিম দিকে সেই তেল যখন পৌঁছাচ্ছে, ততক্ষণে তা মহার্ঘ হয়ে পড়ছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জাহাজগুলিকে আফ্রিকার ‘উত্তমাশা অন্তরীপ’ হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। অশান্ত পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে বিমা ও পণ্য বহনের খরচও অনেকটা বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ