নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পুজোয় ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ না মিললেও বেড়েছে মশার উপদ্রব। সকাল ও সন্ধ্যায় ঘরে টেকা যাচ্ছে না। তাই কালীপুজোর মুখে মশার আঁতুড়ঘর নিধনে ঝাঁপাচ্ছে শিলিগুড়ি পুরসভা। তাদের সন্দেহ, রেলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) গ্যারেজ, থানার সামনে রাখা বাজেয়াপ্ত গাড়িতে মশার আঁতুড়ঘর রয়েছে। এজন্য সহযোগিতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে পুরসভা চিঠি পাঠাবে বলে খবর। রাজ্য সরকারের ভিডিয়ো কনফারেন্সের পর মঙ্গলবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় শিলিগুড়ি শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে জোর দিয়েছে পুরসভা। তারা এর সুফলও পেয়েছে। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর মধ্যে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর হদিশ মেলেনি। প্রশাসন সূত্রের খবর, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৪ জন। যা বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই কম। পুরকমিশনার বন্দভাসী তেজা দীপক বলেন, এবার গত সেপ্টেম্বর মাসে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছিল। অক্টোবর মাসে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী মেলেনি। এটা ধারাবাহিকভাবে সাফাই অভিযান চলার সুফল। এতে স্বস্তি মিললেও সাফাই অভিযানে আরও জোর দেওয়া হবে।
এদিকে, শীতের মরশুম শুরুর মুখেই শহরে মশার উপদ্রব বেড়েছে। সকালে জানালা খুলতেই ঘরে ঢুকছে মশার ঝাঁক। আর বিকেলে জানালা বন্ধ না করলে সন্ধ্যায় ঘরে টেকা যাচ্ছে না। মশা মারার তেল কিংবা ধূপকাঠি জ্বালিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘিরে ধরছে। এনিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সূত্রের খবর, এনজেপি এলাকায় রেলের কিছু পরিত্যক্ত কোয়ার্টার রয়েছে। সেগুলি জঙ্গলে ঘেরা। কিছু জায়গায় রয়েছে জমা জলও। আবার বিভিন্ন থানার সামনে বাজেয়াপ্ত গাড়ি, এনবিএসটিসির গ্যারেজ ও ডিপোতে বাসের যন্ত্রাংশ, টায়ার, টিউব প্রভৃতির একাংশ অপরিচ্ছন্ন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া দীপাবলি, কালীপুজো ও ছটপুজোতে শহরের অনেক খাল, পতিত জমি থেকে বৃষ্টির প্রচুর ঘট, প্রদীপ, খিচুড়ির জন্য ফয়েল প্যাকেট ব্যবহার হবে। সেগুলি যত্রতত্র ফেললে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সাফাই অভিযানে ঝাঁপাতে নয়া ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে পুরসভা। ইতিমধ্যে তারা এ ব্যাপারে শহরে সার্ভেও করেছে। পুরকমিশনার বলেন, মশার উপদ্রব রুখতে ও আঁতুড়ঘর ধ্বংস করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে পুলিশ, এনবিএসটিসি, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।



