জঞ্জাল কর তুলে দিচ্ছে ইংলিশবাজার পুরসভা, ঘোষণা নয়া চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ির
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে কর চাপিয়েছিল তৃণমূলের পুরবোর্ড। এনিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাসিন্দাদের অনেকেই। সেইসঙ্গে বাজার ও হোটেলের উপর কনজারভেন্সি চার্জ লাগু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শহরের ব্যবসায়ীরা। বিজেপি পুরবোর্ড দখল করতেই তৃণমূলের আমলে লাগু করা সেই জঞ্জাল কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল। মঙ্গলবার ইংলিশবাজার পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি বলেন, আজ, বুধবার থেকে আর কাউকে জঞ্জাল কর দিতে হবে না। শহরবাসীর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নিয়েই বর্জ্য অপসারণের পরিষেবা দেওয়া হবে।

Advertisement

পুরসভার এই সিদ্ধান্তে ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি খুশি ব্যবসায়ীরা। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, ব্যবসায়ীরা এমনিতেই প্রপার্টি ট্যাক্স দেন। তৃণমূল বোর্ডের আমলে নতুন করে তাঁদের উপর কনজারভেন্সি সার্ভিস ট্যাক্স চাপানো হয়। এনিয়ে আমরা সেসময় প্রতিবাদ করেছি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর আমাদের দাবি ছিল, যাতে ব্যবসায়ীদের উপর থেকে জঞ্জাল কর প্রত্যাহার করা হয়। ইংলিশবাজার পুরসভার নয়া পুরপ্রধান আমাদের দাবি মেনে জঞ্জাল কর প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁকে সাধুবাদ। 
এনিয়ে ইংলিশবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, আমি নিজের ইচ্ছামতো জঞ্জাল কর চালু করেছিলাম, এমনটা মোটেই নয়। সরকারের নির্দেশেই ওই কর চালু হয়েছিল। যাঁরা বর্জ্য ফেলে রাস্তাঘাট নোংরা করেন, তাঁদের উপরেই মূলত জঞ্জাল কর লাগু ছিল। 
ইংলিশবাজার শহরে ২৯টি ওয়ার্ডে ৬২ হাজারের মতো হোল্ডিং রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে রোজ সকালে বাঁশি বাজিয়ে বাড়ি থেকে যে বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার জন্য দিনে এক টাকা করে ফি ধার্য করেছিল কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল পুরবোর্ড। এছাড়া দোকান, বাজার ও হোটেল থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দিনে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত কনজারভেন্সি চার্জ লাগু ছিল। যদিও প্রথম থেকেই ওই কর দিতে বেঁকে বসেন শহরের ব্যবসায়ীদের বড়ো অংশ। এনিয়ে তৃণমূল পুরবোর্ডের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ বাঁধে। অভিযোগ, জঞ্জাল কর দিতে অস্বীকার করায় পুরসভা পরিচালিত বিভিন্ন বাজারের সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দেয় তৃণমূল পুরবোর্ড। এর ফলে ইংলিশবাজার শহরের একাধিক পুর বাজারের অবস্থা চরম বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
এদিন ইংলিশবাজারের বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি বলেন, পুরসভায় অনেক ঘাটতি আছে। প্রচুর সম্পত্তিকর বকেয়া। পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিমাসে ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন দিতে আড়াই কোটি টাকা লাগছে। তার পরও আমরা মানুষের উপর থেকে করের বোঝা হালকা করতে চাই। চেয়ারম্যানের আশ্বাস, শীঘ্রই বন্ধ থাকা মিউটেশনও চালু হবে। পুরদপ্তরের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। মিউটেশনের সঙ্গে যাতে খুব বেশি বাড়তি ফি দিতে না হয়, সেটাও দেখা হবে। • নিজস্ব চিত্র।