সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: পুজোর মাসে দেশি মদেই মজে উঠল বাঙালির মন। কোচবিহার জেলায় বিলিতি মদকে টেক্কা দিল ‘কান্ট্রি লিকার’। শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই এই জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত মদ বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। রাজ্য আবগারি দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা মঙ্গলবার বলেন, এই জেলায় দেশি মদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। বিগত কয়েক মাসের তুলনায় পুজো মরশুম অক্টোবর মাসে মদের বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে।
রাজ্য আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় মাসে গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে শুধুমাত্র অক্টোবর মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে মদ বিক্রি এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে। প্রায় ৭৫ কোটি টাকার কাছাকাছি মদ বিক্রি হয়েছে চলতি মাসে।
আবগারি দপ্তরের ওই পদস্থ কর্তা আরও বলেন, অক্টোবর মাস শেষ হতে এখনও কয়েকটি দিন বাকি আছে। কিন্তু এই পর্যন্ত যা প্রাথমিক হিসেব পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে পুজোর সময় মদের বিক্রি প্রায় ১০ কোটি টাকা বেড়েছে।
রাজ্য আবগারি দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার সুরা প্রেমীদের কাছে পুজোয় বিলেতি মদের থেকে দেশি মদের প্রতি ঝোঁকটাই সব বেশি ছিল। কারণ অক্টোবরের তিন সপ্তাহে কোচবিহার জেলায় মোট যা মদ বিক্রি হয়েছে তার ৮০ শতাংশই দেশি মদ। বাকি যা বিক্রি হয়েছে, তারমধ্যে বিদেশি মদ এবং অন্যান্য প্রকৃতির অ্যালকোহল ছিল।
বার কাম রেস্তোরাঁ, অফ শপ, অন শপ এবং দেশি মদের দোকান সহ কোচবিহার জেলায় প্রায় ৭০টি লাইসেন্স প্রাপ্ত জায়গা থেকে মদ বিক্রি হয়। জানা গিয়েছে, এই প্রত্যেকটি জায়গাতেই চলতি মাসে মদের বিক্রি বিগত কয়েক মাসের তুলনায় এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
পুজোর সময় অষ্টমী এবং দশমীতে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্য আবগারি দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, বিশেষ দিনগুলিতে মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত একদম সঠিক পদক্ষেপ। কিন্তু দোকান, বার বন্ধ রাখলে কী হবে। সুরাপ্রেমীরা সবাই আগে থেকেই জেনে যাচ্ছে যে কোন কোন দিন মদের দোকান বন্ধ থাকছে। ফলে তারা আগেভাগেই মদ কিনে স্টক করে রেখে দিচ্ছে। ফলে ড্রাই ডে থাকলেও সুরাপ্রেমীদের গলা ভেজানো আটকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। • প্রতীকী চিত্র।



