নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের দক্ষিণ-পূর্বে রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তি সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড়ে অস্থায়ীভাবে ডেরা বেঁধেছে বক্সার বাঘিনি। বাঁশঝাড়টির আয়তন প্রায় ১০০ বিঘা। পাশে কাঁঠাল ও আনারসের বাগান রয়েছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার থেকে বাঘিনিটিকে ওই বাঁশঝাড় থেকে রায়মোনার আরও গভীর জঙ্গলে পাঠানোর কাজ শুরু হবে। সেজন্য উন্নত প্রযুক্তির নাইট ভিশন ড্রোন ও জিপিএস ব্যবহার করছে বনদপ্তর।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছ’দিনে বাঘিনিটি ওই বনবস্তির তিনটি পূর্ণবয়স্ক শূকর ও চারটি শূকরের বাচ্চা শিকার খেয়ে নিয়েছে। বনবস্তিতে বাঘিনিটির অসংখ্য থাবার ছাপ ও মলের নমূনা মিলেছে। এমনকী গাছে থাবার অসংখ্য আঁচড়েরও প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে, শ্যাডো জোনে কাজই করেনি বাঘের গলায় পড়ানো কলার আইডি! এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেল বনমন্ত্রীর বক্তব্যে। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ মঙ্গলবার বলেন, অনেক সময় বাঘ ঝোঁপে লুকিয়ে থাকলে সিগন্যাল ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তবে বাঘটি এখন আমাদের নজরদারির মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে বন কর্তাদের একাংশ বাঘটি শিকার হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, রায়মোনার জঙ্গল অসমের বোরো টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের অন্তর্গত। যেখানে অতীতে বহু বন্যপ্রাণ শিকার হয়েছে। এদিন অসম বনদপ্তরের কচুগাঁও ডিএফও’র দপ্তরে বৈঠক হয়। সেখানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, অসম বনদপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা, ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি ও ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বাঘ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বাঘিনিটি বক্সার জঙ্গল থেকে সংকোশ নদী পেরিয়ে রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গল থেকে ওই বনবস্তির বাঁশবাগানে আস্তানা গাড়ল কেন?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সাধারণত দীর্ঘ যাত্রাপথে বাঘেরা সাময়িক বিরতি নেয়। বিরতি নেয় এমন নিরাপদ স্থানে যেখানে খাবার জল ও সহজ শিকার থাকে। ওই বাঁশবাগান থেকে ৮ কিমি দূরে রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তিতে সহজ শিকার মিলছে। সেই জন্যই বাঘিনিটি ওই বনবস্তির পাশে বাঁশবাগানে অস্থায়ীভাবে ডেরা নিয়েছে।
এদিকে কচুগাঁও বনবিভাগের ডিএফও’র অফিসে এদিনের ম্যারাথন বৈঠকে বস্তিবাসীরা বনদপ্তরের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে বনদপ্তরকে বস্তিবাসীদের বাঘের আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে হবে। বাঘিনিটি যে সাতটি শূকর খেয়ে নিয়েছে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তির মুখিয়া মৃগেন্দ্র নার্জিনারী বলেন, আমরা তিন পুরুষ ধরে এই বনবস্তিতে বসবাস করছি। কিন্তু কোনোদিন বাঘের এমন আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়নি। আমরা বনদপ্তরের কাছে দাবি জানিয়েছি দুই দিনের মধ্যে আমাদের আতঙ্ক কাটানোর গ্যারান্টি দিতে হবে। সব মিলিয়ে বর্তমানে অসমের ওই বনবস্তির ত্রাস হয়ে উঠেছে বক্সার তিন বছর বয়সি বাঘিনিটি। • এখানেই ঘাঁটি গেড়েছে বক্সার বাঘিনি। - নিজস্ব চিত্র।



