নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রেজিনগর উপনির্বাচনে অবাধে ভোট লুটের অভিযোগে নির্বাচনের দিন সরব হলেও স্ক্রুটিনিতে একটি বুথেও রি পোল চাইল না কোনো রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার রেজিনগরে বিরোধী এজেন্টদের বসতে না দেওয়া এবং পুলিশের মদতে অবাধে ভোট লুট করা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কিন্তু নির্বাচনের পর স্ক্রুটিনিতে নির্দিষ্ট কেউ কোনো অভিযোগ করলেন না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে জেলাশাসকের অফিসে শুরু হয় স্ক্রুটিনি। সেখানে সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের আসার কথা থাকলেও মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কেউ হাজির হয়নি। বাকি রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা হাজির হলেও তাঁরা নির্বাচনে ছাপ্পার অভিযোগ তোলেননি এবং একটিও বুথে রি পোলের দাবি জানাননি। এদিন ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অবজার্ভাররাও।
জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো বুথে রি পোল চাওয়া হয়নি। কোনো অভিযোগও কেউ করেননি।
গণতান্ত্রিক তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, তাহলে নির্বাচনের দিন কেউ কেউ রাস্তায় যেভাবে নেমে আন্দোলন করলেন, সেটা কি প্রচারে থাকার জন্য? আজ যেখানে অভিযোগ জানালে কাজ হতো, সেখানে তো কোনো অভিযোগ নেই। একটি বুথেও রি পোলের দাবি জানায়নি। তাহলে এটাই তো এদের বিজেপির সঙ্গে সেটিং।
মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল বলেন, এটা কি নির্বাচন হল? কেউ ভোট দিতে পারেনি। আমরা গণনার দিন কোনো এজেন্ট পাঠাব না। এদিন স্ক্রুটিনিতেও যাইনি কেউ। কী হবে দু’-একটি বুথে রি পোল দাবি করে? সব বুথে ছাপ্পা হয়েছে।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, কথা রাখলেন না শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে ডেকে আমাকে বলেছিলেন ৩০ হাজার ভোটে আমার ছেলে জিতবে। সেই মুখ্যমন্ত্রীই গতকাল পুলিশ দিয়ে ভোট লুট করালেন।
বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য রেজিনগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গৈরিক অভিনন্দন জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসন যেভাবে নির্বিঘ্নে নির্বাচন করেছে তাতে সকল ভোটার খুশি। নির্বাচনে পায়ের তলায় মাটি সরে গিয়েছে বুঝতে পেরে নির্বাচনি ময়দান ছেড়ে মিডিয়ার সামনে অনেকেই লাফালাফি করেছে। কিন্তু আসলে কোনো বুথ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। থাকলে আজকে তো জানাতে পারত। -নিজস্ব চিত্র