রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম পুরভোটের সালতামামি যখন লেখা হবে, তখন নিঃসন্দেহে স্থান পাবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক উধাও হয়ে যাওয়ার গল্প! এখনও পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগে জোড়াফুল প্রতীকের ‘মালিকানা’ নির্ধারণ কার্যত অসম্ভব। কেন না, সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। সেখানে ৪ মাস সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছেতৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিষ্পত্তির জন্য। ফলে ২০২৬ সালের শেষে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় যে ভোট হতে চলেছে, সেখানে থাকছে না জোড়াফুলের প্রতীক। কলকাতা পুরসভা এলাকায় তৃণমূল প্রথম জয়ের স্বাদ পায় ২০০০ সালে। ওই বছরের ১২ জুলাই তৃণমূলের হয়ে কলকাতার মেয়র হন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কর্মদক্ষতা, পরিচালনা, বুদ্ধি এবং জনসংযোগ তৃণমূলের জয়ের রাস্তা উত্তরোত্তর মসৃণ করে। অনেকেই বলে থাকেন ২০১১ সালে তৃণমূলের হাত ধরে রাজ্যে যে পালাবদল হয়েছিল, তার সূতিকালগ্ন ছিল ২০০০ সালে সুব্রত’র হাত ধরে পুরসভায় ক্ষমতায় আসা। ২০০৫ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়র ছিলেন সুব্রতবাবু। ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর তিনি প্রয়াত হয়েছেন। সুব্রতর ছায়াসঙ্গী স্বপন মহাপাত্র বলেন,জোড়াফুলের প্রতীকে ছোটো লালবাড়ি আমরা জিতেছিলাম। পুরসভা থেকে জোড়াফুলের জয়ের রাস্তা পৌঁছায় বড়ো লালবাড়ি তথা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। আজ সেই জোড়াফুলের প্রতীকটাই পুরভোটে না থাকায় কষ্ট লাগছে।
২০০৫ সালে সিপিএম আবার কলকাতা পুরসভায় ফিরে আসে। মেয়র হন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কিন্তু পাঁচ বছর পর আবার পালাবদল। ২০১০ সালের ১৬ জুন তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকে জিতে কলকাতা পুরসভার মেয়র হন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি মেয়র পদে ছিলেন ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। তারপর ২২ নভেম্বর থেকে মেয়র পদে বসেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি মেয়র পদে ছিলেন সাত বছর। ২০২৬ সালের ৫ জুন পর্যন্ত মেয়র ছিলেন তিনি।
কিন্তু পুরভোটে জোড়াফুলের প্রতীক না থাকায় ফিরহাদের বক্তব্য, দুর্ভাগ্যজনক। কষ্ট লাগছে। আমি ২৫ বছরের কাউন্সিলর, সেখানে জোড়াফুলের প্রতীকটা আপাতত নির্বাচনি পরিমন্ডলে দেখতে না পাওয়ায় মনে তো কিছুটা আঘাত আসবেই। তবে নিশ্চয়ই ওই প্রতীক ফিরে আসবে। আমরাই পাবো।
আরেক প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, কী অনুভূতি আর ব্যক্ত করব! রাজনীতিতে জয়-পরাজয় আছে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৃণমূল দল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খাল কেটে কুমির আনলে যেটা হয়, আজ বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেটাই হয়েছে। যারা দিদিমণিকে একদিন আঘাত করতে গিয়েছিল, তাদের সম্পর্কে আগেই বোঝা উচিত ছিল। দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলেন তো!
অন্যদিকে হাওড়া পুরসভায় প্রথম জোড়াফুল ফোটে ২০১৩ সালে। মেয়র হয়েছিলেন তৃণমূলের রথীন চক্রবর্তী। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের মেয়র ছিলেন। প্রাক্তন দল ও জোড়াফুলের প্রতীক আসন্ন পুরভোটে না থাকায় রথীনবাবুর বক্তব্য, দলটা পলিউটেড হয়ে গিয়েছিল। আমি অনেকবার সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু শোনা হয়নি বা ত্রুটি মেরামত করা হয়নি। তখনই নিশ্চিত ছিলাম, এই পরিণতিই হবে।