নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকজন কাউন্সিলার একজোট হয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবেন, তা কোনওভাবেই করা যাবে না। এই স্পষ্ট নির্দেশ আরও একবার দেওয়া হল তৃণমূল ভবন থেকে। জঙ্গিপুর পুরসভার অনাস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা নেতৃত্বকে কলকাতায় ডেকে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য নেতৃত্ব।
সম্প্রতি জঙ্গিপুর পুরসভায় পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর এলাকার নেতৃত্বকে কলকাতার তৃণমূল ভবনে ডেকে পাঠান রাজ্য নেতৃত্ব। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির নির্দেশে বৈঠকে হয়। যেখানে ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। জেলা থেকে এসেছিলেন সাংসদ তথা জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি খলিলুর রহমান, মন্ত্রী আখরুজ্জামান, পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম সহ অনেকে। অসুস্থ থাকায় বিধায়ক জাকির হোসেন এদিন বৈঠকে আসতে পারেননি। এমনকী বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলাররাও আসেননি। পুরপ্রধানকে পদ থেকে সরানোর জন্য ১১ জন কাউন্সিলারের চিঠি জমা পড়ে। তাতে তৃণমূলের ৮ জন কাউন্সিলার স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে সমর্থন দেন বিজেপি ও কংগ্রেসের কাউন্সিলাররা।
কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ, বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলারদের পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কোনও অভাব-অভিযোগ থাকলে দলকে জানান। কিন্তু কয়েকজন কাউন্সিলার একজোট হয়ে পুরপ্রধানকে পদ থেকে সরানোর জন্য উদ্যোগী হবেন, তা দল সমর্থন করে না। আগামী দিনে এইরকম ঘটনা ঘটলে দলের তরফে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন। কাউন্সিলারদের আচরণ দল নজর রাখছে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদে থাকছেন মফিজুল ইসলাম। একইভাবে পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর পুরসভার ক্ষেত্রেও বার্তা পৌঁছেছে রজ্যের তরফে।