Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে শোরগোল

দু’বছর ধরে দাঁইহাট পুরসভায় অচলাবস্থা চলছিল। বারবার বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছিলেন না সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি।

দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে শোরগোল
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: দু’বছর ধরে দাঁইহাট পুরসভায় অচলাবস্থা চলছিল। বারবার বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছিলেন না সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি। চেয়ারম্যান বাকি কাউন্সিলারদের কথা শোনেন না বলে অভিযোগ তুলছিলেন। মঙ্গলবার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে যোগ না দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থাপত্র জমা দিলেন ১১জন বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার। তাঁরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এগজিকিউটিভ অফিসারের হাতে অনাস্থাপত্র জমা দিয়ে পুরসভা ছাড়েন তাঁরা। পরে কাটোয়ার মহকুমা শাসকের কাছেও অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন বিক্ষুব্ধরা। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে দাঁইহাটজুড়ে শোরগোল পড়েছে। 

Advertisement

কয়েকদিন আগে ১৪টি ওয়ার্ডবিশিষ্ট এই পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলারকে কলকাতায় বৈঠকে ডাকে রাজ্য নেতৃত্ব। সেখানে চেয়ারম্যান সহ সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে বলা হয়। কিন্তু তারপরই অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ল। পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ রায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু অফিসিয়ালি এখনও আমাকে জানানো হয়নি। জানতে পারলে দলীয় নেতৃত্বকে জানাব। তবে আমার আমলে যা উন্নয়ন হয়েছে শহর ঘুরলেই দেখতে পাবেন। 
লোকসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত দাঁইহাট পুরসভা নিয়ে অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠকে যোগ দিচ্ছিলেন না ১১জন কাউন্সিলার। বারবার চেয়ারম্যানকে সরানোর দাবিতে সরব হচ্ছিলেন তাঁরা। এমনকী চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে আগে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি দিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কেউই বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দেবেন না। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের বেশ কয়েকবার জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব বৈঠকে ডেকে সমাধানসূত্র বের করার চেষ্টা করেছিল। তাতেও বরফ গলেনি।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনাস্থা প্রস্তাবে ১১জন কাউন্সিলার সই করেছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলার শিশিরকুমার মণ্ডলও সই করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দলের রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকে চেয়ারম্যানকে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এরজন্য একটি টেন্ডার কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান রাজ্য নেতৃত্বের কথাও মানেননি। তিনি নিজের মর্জিমতো পুরসভার কাজকর্ম চালাচ্ছেন। তিনি শুধুমাত্র দুই কাউন্সিলারকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার কাজ করছেন। তাই আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি। এছাড়া আমাদের কিছু আর করার ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যান প্রদীপবাবু ২০০৫সাল থেকে সিপিএমের কাউন্সিলার ছিলেন। ২০১৮সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২২ সালে পুরভোটে তৃণমূল ১৪টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়। তারপর ১৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিশিরবাবু দ্বিতীয়বারের জন্য চেয়ারম্যান পদে বসেন। কিন্তু ওই বছরেই নভেম্বর মাসে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তার জেরে দলীয় নির্দেশে শিশিরবাবু চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। তখনই প্রদীপবাবু চেয়ারম্যান হন। গত লোকসভা ভোটের সময় থেকেই প্রদীপবাবুর বিরুদ্ধে সরব হন ১১জন কাউন্সিলার। দু’বছরে ৪৫টি বোর্ড মিটিং ডাকা হলেও বেশিরভাগ বৈঠকে যোগ দিচ্ছিলেন না কাউন্সিলাররা। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার শুভ্রা ঢালি বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে যা আলোচনা হয় পরে তা পরিবর্তন হয়ে যায়। চেয়ারম্যান আমাদের কথাই শোনেন না। এতে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই আমরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব অনাস্থা আনতে নিষেধ করেছিল। ওরা সেটা অমান্য করল। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ