নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুর্নীতির সঙ্গে সরকার যে কোনোভাবেই আপস করবে না, তা ফের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পুলিশ লাইনের প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি বলেন, এবারের ভোট আপনারা শুধুমাত্র আমাদের দেখে দেননি। কাটমানি, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, চাকরি চুরি, গোরু পাচারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। আবাসের টাকা যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁরা ফেরত দেবেন। আবার জেলেও যাবেন। কেউ আটকাতে পারবে না।
এদিন বালি মাফিয়াদেরও মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বালি পাচার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতারা ভোটের আগে বালি জমা করে রেখেছিল। আবার ভোটে জিতে বিক্রি করবে বলে ভেবেছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আগে অবৈধ বালি খাদানের রমরমা ছিল। বর্ধমান থেকে বালির ঘাটের টাকা ক্যামাকস্ট্রিটে যেত। এসব আর হবে না। শুধু বর্ধমানে একটা জায়গার বালি নিলাম করে ১৩ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। সমস্ত স্টক বালি নিলাম করা হবে। গুন্ডাদমন বিল নিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেটা বলি সেটা করি। সব হবে।
এদিন দুপুরে হেলিকপ্টারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে যান। মায়ের পুজো দেন। মন্দিরের পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন, মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী রূপরেখা জমা করতে বলেছেন। এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে আসায় আমরা খুশি। এদিন তাঁকে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বর্ধমানের বিখ্যাত মিহিদানা-সীতাভোগ দেওয়া হয়েছে।
এদিনের সভা থেকে কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১২৫ দিনের কাজে জোর দেওয়া হবে। সমস্ত নিয়োগ স্বচ্ছভাবে হবে। ১২হাজার কনস্টেবলের নিয়োগের রেজাল্ট ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। এরপর কলকাতা পুলিশে নিয়োগ হবে। ২০২৭-এর মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ সব নিয়োগে স্বচ্ছতা রাখা হবে। লোকপ্রসার শিল্পীদের ভাতা সামনের বাজেটে বাড়াব। অনেক শিল্প স্থাপন হবে। ডানকুনিতে একটি কারখানার জন্য ৬০০ কোটি টাকার ভূমি পুজো হয়েছে। দু’দিন আগে ৩৩টি কারখানার জমি দিয়েছি। ৬২হাজার লোক চাকরি পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে সব প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। জলজীবন মিশন সহ অন্যান্য প্রকল্পে টাকা লুট হয়েছে। মদ-গাঁজার ঠেক ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। যারা মহিলাদের উপর অত্যাচার করবে, তাদের কঠোর সাজা দেওয়া হবে। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হলে ছাড়ব না। যারা নকল এসসি, এসটি সার্টিফিকেট দিয়েছেন, তাঁদের জেলে যেতে হবে। আদিবাসীদের জায়গা দখল করতে দেব না। প্রশাসনকে বলব তাঁদের পাট্টা দিন। সেই জমিতে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।