নয়াদিল্লি: অনুমতি না নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় বা কাজকর্মে যোগ দেওয়া যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কোনো মন্তব্য নয়। আইআইটি রুরকি কর্তৃপক্ষ সোমবারের ই-মেলে এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে। আর তরুণ প্রজন্মের চলতি আন্দোলনের আবহে এই নির্দেশিকা ঘিরে দানা বেধেছে বিতর্ক। অনেকেই এই নির্দেশিকাকে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের উপর কুঠারাঘাত বলে মম্তব্য করেছেন।
নির্দেশিকায় কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম করা হয়নি বটে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে রাজধানী দিল্লি যখন উত্তাল, তখন এই ধরনের নির্দেশিকাকে কাকতালীয় বলতে রাজি নন অনেকেই। বরং প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের বাক্স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার ত্যাগ করতে বলার ধৃষ্টতা দেখাবেন না। এই ই-মেলটি প্রত্যাহার করুন এবং ক্ষমা চান।’ চাপে পড়ে নির্দেশিকার পক্ষে সাফাই দিয়েছে আইআইটি রুরকি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে নিয়মমাফিক পড়ুয়া, শিক্ষক ও কর্মীদের এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়। এবারও তার অন্যথা হয়নি। এই নির্দেশিকাকে ভিন্ন প্রেক্ষিতে দেখা ঠিক হবে না।’ তবে বিতর্ক থামছে না।
সোমবার আইআইটি রুরকির রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের ই-মেল করে জানানো হয়, ‘ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী চলতি রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।’ এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পড়ুয়া এবং গবেষকদের সংবাদমাধ্যম বা অন্যত্র মতামত প্রকাশে সাবধানী হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়, এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’