Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিহারে কিশোরীকে শ্লীলতাহানি, হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন, ছোট্ট ঘটনা, দাবি শাসক শিবিরের

টিউশন থেকে ফেরার পথে ভরসন্ধ্যায় কিশোরী ও তার পুরুষ বন্ধুকে আটকে ‘নীতি পুলিশে’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হল একদল যুবক। কিশোরীকে শ্লীলতাহানি করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা।

বিহারে কিশোরীকে শ্লীলতাহানি, হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন, ছোট্ট ঘটনা, দাবি শাসক শিবিরের
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাটনা: টিউশন থেকে ফেরার পথে ভরসন্ধ্যায় কিশোরী ও তার পুরুষ বন্ধুকে আটকে ‘নীতি পুলিশে’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হল একদল যুবক। কিশোরীকে শ্লীলতাহানি করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। সঙ্গী কিশোরকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। অন্ধকার রাস্তায় ছোট্ট মেয়েটির আপত্তিকর জায়গায় হাত দিয়ে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে মুখে কাপড় বাঁধা এক যুবক। সমানে চলতে থাকে চড়-থাপ্পড় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। ওই কিশোরী হাতজোড় করে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও পাত্তা দেয়নি অভিযুক্তরা। অভিযোগ, মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করানোর হুমকি দেওয়া হয় কিশোর-কিশোরীকে। শনিবার সন্ধ্যায় এমনই বর্বরোচিত ঘটনার সাক্ষী থাকল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য বিহারের জামুই। ঘটনার তদন্তে নেমে সোমবার মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। কিশোরীর শ্লীলতাহানির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এনডিএ সরকারের আমলে বিহারে জঙ্গলরাজ নিয়ে সরব কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। অবিলম্বে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়ে বিহার সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কটাক্ষ করেছে আম আদমি পার্টি, আরজেডি ও কালীঘাট তৃণমূলও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হৃদয় বিদারক  ঘটনা। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে ঘটনা ঘটেছে, তাদের নেতারা কী জবাব দেবেন।’  বিহারের শাসক শিবির বিষয়টিকে ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেই আড়াল করতে ব্যস্ত। বিজেপির জোটসঙ্গী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউর প্রদেশ সভাপতি উমেশ কুশওয়া বলেন, ‘২০০৫ সাল মনে আছে... কেউ তখন ঘর থেকে বেরতে পারত? এখন ছোটোখাটো ঘটনা ঘটলেই সরকার ব্যবস্থা নেয়!’ কলকাতায় এসে মুঙ্গেরের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লাল্লন সিং জানিয়েছেন, বর্তমানে বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একদম সুরক্ষিত। বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Advertisement

জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণির পড়ুয়া ওই কিশোরী ও তার বন্ধু দু’জনেই জামুইয়ের বাসিন্দা। শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন সেরে ফিরছিল। তখনই চড়াও হয় একদল যুবক। রাস্তা আটকে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করার পাশাপাশি চলতে থাকে শ্লীলতাহানি, গালিগালাজ, মারধর। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সরব হন রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি বলেন, ‘ওদের এসব করার অধিকার কে দিয়েছে? অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণকে ‘সংস্কৃতি’ হিসাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের কাণ্ডকারখানাকে স্বাভাবিক মনে করছে অন্ধভক্তরা। আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। ভিডিয়োয় থাকা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে পকসো আইনে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ বিহারের জঙ্গলরাজ নিয়ে বিরোধীরা সরব হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে রাজ্যের এনডিএ সরকার। বিহারের মন্ত্রী সুনীল কুমার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে একটা ঘটনার উপর ভিত্তি করে পুরো বিহারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক নয়।
বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে রাজ্য মহিলা কমিশনও। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিতার ভিডিয়ো আপলোড করার জন্য ৩২টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ