নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি হওয়ায় প্রবল সমস্যায় পড়েছে কৃষকরা। তাই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলিকে খরা ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে কৃষিমন্ত্রকের চিন্তা বেড়েছে। কেন না, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না মিললে কর্ণাটকে ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষকরা। তারা চাষ-আবাদে বিরত থাকলে যে আদতে ভারতের খাদ্য ভাণ্ডারে টান পড়বে, বলাই বাহুল্য। তাই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে কৃষি সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্প দ্রুত পালনের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এরই পাশাপাশি আগামী ২৮ এবং ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির পুসা ইনস্টিটিউটে বসছে রবি চাষের সম্মেলন। শীতকালীন চাষে উৎপাদন বাড়িয়ে কীভাবে কম বৃষ্টিপাতে দেশের একাংশে কম চাষ হওয়ার সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রকের তথ্য মোতাবেক, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দুই দিনাজপুরের পাশাপাশি মালদা এবং মুর্শিদাবাদে বৃষ্টিপাত ২০-২৯% কম। ফলে খরিফ মরসুমের চাষে তার প্রভাব পড়বে। কীভাবে এটি সামাল দেওয়া হবে, তার উপায় খুঁজছে কেন্দ্র। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ২০ সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাতের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সামগ্রিক মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি ১৫ %। অন্ধ্রপ্রদেশে কৃষক, ভাগচাষি ও কৃষিশ্রমিকরা চাষের এলাকাকে খরা কবলিত বলে ঘোষণার দাবির পাশাপাশি বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ চাইছে। কৃষকদের দাবি, প্রায় ৫০ লক্ষ একর জমিতে চাষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ২০ লক্ষ একর জমি থেকে ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে কৃষিঋণ মকুবের দাবিও উঠছে। একইভাবে কর্ণাটকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষকরা। কর্ণাটক সরকারও পরিস্থিতিকে গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাই কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক সরকারও কেন্দ্রের মোদি সরকারের ওপর ক্ষতিপূরণ চেয়ে চাপ দেবে বলেই ঠিক করেছে। মহারাষ্ট্রে হেক্টরপ্রতি ৫০ হাজার টাকা সহায়তার দাবি করেছেন শারদ পাওয়ার। এ ব্যাপারে তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।