নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অভিযানে যাওয়ার জন্য দপ্তরের নিজস্ব গাড়ি নেই। দুই জেলার জন্য সাকুল্যে চারজন ইন্সপেক্টর। জলপাইগুড়িতে ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ কার্যত ‘নিধিরাম সর্দার’। জালওষুধ কাণ্ড নিয়ে চারদিকে যখন তোলপাড়, ঠিক তখন উত্তরবঙ্গের এই জেলায় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের বেহাল ছবি নানা মহলে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জেলায় দপ্তরের পরিকাঠামোর যে অভাব রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির সহকারী ড্রাগ কন্ট্রোল অধিকর্তা সমিত সাহা। তিনি বলেন, বর্তমানে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার, এই দুই জেলার জন্য আমাদের চারজন ইন্সপেক্টর। তাছাড়া নিজেদের গাড়ি নেই। আগে থেকে পরিকল্পনা করে কোনও অভিযানে যাওয়ার থাকলে জেলাশাসকের দপ্তরে গাড়ি চাওয়া হয়। সরকারি প্রক্রিয়া মেনে গাড়ি পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। কিন্তু আচমকা কোথাও অভিযানে যেতে হলে নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করেই গাড়ি ভাড়া করতে হয়। পরে বিল করেও সেই টাকা পাওয়া যায় না। কারণ, যে তহবিল থেকে ওই বিল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেই ফান্ড এখন কার্যত বন্ধ। পরিকাঠামোর অভাবের কারণে চাইলেও সবসময় যে সব জায়গায় অভিযানে যাওয়া সম্ভব হয় না, সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের ওই সহকারী ডিরেক্টর।
ভিনরাজ্য থেকে উত্তরবঙ্গে জাল ওষুধ ঢুকছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগকে আরও সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের জলপাইগুড়ি শাখার তরফে। যদিও জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকদের দাবি, ‘জলপাইগুড়িতে জাল ওষুধ ঢোকার ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা যেভাবে বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠাই, সেই কাজ চলছে।
গুণমান যাচাইয়ের জন্য বাজার থেকে ওষুধের যেসব নমুনা সংগ্রহ করে থাকে ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর, সেগুলি তাদের কিনে নিতে হয়। অর্থাৎ, সরকারি অর্থে কেনা হয়ে থাকে ওইসব ওষুধ। ফলে চাইলেই যতখুশি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন না ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা।
এদিকে, ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগে জমা পড়া ওষুধ পরীক্ষার পর তার রিপোর্ট আসতে বছর পেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তিন মাস আগে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মাদার অ্যান্ড চাইল্ডহাবে চিকিৎসাধীন এক প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। পরে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে মৃত্যু হয় তাঁর। এ ঘটনায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার ওই প্রসূতির চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়া যাবতীয় ওষুধের গুণমান পরীক্ষার জন্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগে জমা দেন। যদিও এখনও সেই রিপোর্ট আসেনি।
দপ্তর সূত্রে খবর, গত একবছরে জলপাইগুড়ি ড্রাগকন্ট্রোল বিভাগের তরফে যত ওষুধের নমুনা যাচাইয়ের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র দশ শতাংশের এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট এসেছে।