নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ময়নাতদন্ত না করে কোনও ‘ব্রট ডেথ’-এর ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে দেহ ছাড়া যাবে না। লাটাগুড়ির ঘটনার পর কড়া নির্দেশ জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদারের। মঙ্গলবার তিনি বলেন, সমস্ত হাসপাতালের সুপার ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যদি ব্রট ডেথ আসে, সঙ্গে সঙ্গে তা পুলিসকে জানাতে হবে। ময়নাতদন্ত না করে ওই দেহ ছাড়া যাবে না। যদি কোনও চিকিৎসক ব্রট ডেথের ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে দেহ ছেড়ে দেন এবং সেই মৃত্যু ঘিরে পরবর্তীতে কোনও ঝামেলা হয়, সেক্ষেত্রে পুরো দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে।
লাটাগুড়ির ৫৪ দিনের শিশুটিকে ব্রট ডেথ অবস্থায় মাঝরাতে আনা হয়েছিল জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, শিশুটি মারা গিয়েছে। এরপরই তিনি দেহ ময়নাতদন্ত হবে বলে জানান। কিন্তু বেঁকে বসে পরিবার। শেষমেশ ‘মানবিক’ কারণে ওই শিশুর দেহ ছেড়ে দেন চিকিৎসক। কিন্তু পরদিন ওই দেহ নিয়ে উত্তাল হয় পরিস্থিতি। ফলে ব্রট ডেথের ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের পাশাপাশি কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষও।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ বলেন, লাটাগুড়ির ঘটনায় আমাদের শিক্ষা হল। এর আগেও আরও দু’একটি এমন ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে সমস্ত চিকিৎসককে বলে দেওয়া হয়েছে, কোনও ব্রট ডেথ এলে সঙ্গে সঙ্গে তা পুলিসকে জানাতে হবে। পুলিস খতিয়ে দেখবে সেক্ষেত্রে দেহের ময়নাতদন্ত হবে কি না। আমরা নিজেদের কাঁধে বিষয়টি রাখতে চাইছি না। শীঘ্রই মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি, সদর হাসপাতাল ও মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের সামনে এ ব্যাপারে ফ্লেক্স টাঙিয়ে দেব আমরা। তাতে পরিষ্কার লিখে দেওয়া হবে, হাসপাতালে ব্রট ডেথ এলে ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, সোমবার জেলাশাসকের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিভিউ মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমি জানিয়ে দিয়েছি, এবার থেকে চিকিৎসকরা সমস্ত ব্রট ডেথের ব্যাপারেই ময়নাতদন্তের জন্য পুলিসকে জানাবেন।