Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেড নেই, মাটিতে ঠাঁই বাস দুর্ঘটনায় জখমদের, বেআব্রু রশিদপুর হাসপাতালের বেহাল পরিষেবা

বেড নেই। রবিবার রাতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় জখমদের জরুরি বিভাগের মেঝেয় রেখে চলল চিকিৎসা। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বংশীহারি গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল দশা ফুটে উঠল আরও একবার।

বেড নেই, মাটিতে ঠাঁই বাস দুর্ঘটনায় জখমদের, বেআব্রু রশিদপুর হাসপাতালের বেহাল পরিষেবা
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বেড নেই। রবিবার রাতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় জখমদের জরুরি বিভাগের মেঝেয় রেখে চলল চিকিৎসা। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বংশীহারি গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল দশা ফুটে উঠল আরও একবার। 

Advertisement

বংশীহারির জামবাগান এলাকায় পথ দুর্ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন জরুরি বিভাগে ছিলেন মাত্র একজন চিকিৎসক। সেখানে ছিল দু’টি করে স্ট্রেচার ও বেড। জরুরি বিভাগের সামনে সাতজন জখমকে আনা হয়। দু’জনকে হাসপাতালে আনা মাত্রই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তখনও জরুরি বিভাগের মেঝেয় জখমদের শুইয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ডিঙিয়ে চলে চিকিৎসা পরিষেবা। কাউকে আবার হাসপাতালের মেঝেয় রেখেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। কারও ড্রেসিং করা হয় মেঝেয় রেখেই। রবিবার রাতে হাসপাতালে এই অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজন সহ স্থানীয়রা। বেড তো দূরের কথা, স্ট্রেচারে না পেয়ে মেঝেয় শুয়ে কাতরান পথ দুর্ঘটনায় জখমরা। বংশীহারি ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের দু’জন ও বালুরঘাট হাসপাতালের এক চিকিৎসক মৃন্ময় রায় ঘটনাস্থল থেকে বালুরঘাটের দিকে যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনা দেখে হাসপাতালে ছুটে যান সাহায্য করতে। তাঁরাও জখমদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সাহায্য করেন। 
তবে, হাসপাতালে বেড না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। ক্ষোভ উগরে দেন জখমদের পরিজনেরা। চিকিৎসক মৃন্ময় রায়ের কথায়, যদি কিছু সাহায্য করতে পারি সেকথা ভেবে দুর্ঘটনার পর ছুটে যাই হাসপাতালে। গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসক কম থাকায় চিকিত্সার কাজে হাত লাগাই। গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামো আরেকটু উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। 
সূত্রের খবর, ৫১২ নং জাতীয় সড়কের পাশে থাকা সরকারি হাসপাতালগুলির জরুরি বিভাগের হাল এমনই। জাতীয় সড়কে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে সামাল দিতে যে নাভিশ্বাস উঠবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে রবিবারের রাতের দুর্ঘটনা।
বংশীহারি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পুলকেশ সাহা এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফোন না তোলায় প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাসেরও। মেসেজেরও উত্তর দেননি তিনি।
হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, বংশীহারি ব্লক হাসপাতালের পরিকাঠামো অল্প। এখন শহর হওয়ায় রোগীর চাপও বেড়েছে। জাতীয় সড়কের পাশে এই হাসপাতালকে একশো বেডের স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করব। স্বাস্থ্য ভবনে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। 
রবিবারের পথ দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিপ্লবের মন্তব্য, যেভাবেই হোক হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। পরিকাঠামোর উন্নতির চেষ্টা করছি। 
 মেঝেতেই আহতদের চিকিৎসা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ