Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

নেই অ্যাম্বুলেন্স-ডাক্তার, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গর্ভে মৃত্যু শিশুর

প্রসব যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন স্ত্রী। চাদর মুড়ি দিয়ে তাঁকে কাঁধে করে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় এগিয়ে চলেছেন স্বামী ও পরিবারের লোকজন।

নেই অ্যাম্বুলেন্স-ডাক্তার, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গর্ভে মৃত্যু শিশুর
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

শ্রীনগর: প্রসব যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন স্ত্রী। চাদর মুড়ি দিয়ে তাঁকে কাঁধে করে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় এগিয়ে চলেছেন স্বামী ও পরিবারের লোকজন। শহরের উন্নয়ন, পাকা রাস্তাঘাট এখনও ছুঁতে পারেনি দেহারনাকে। বলা ভালো, মূল শহর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলার এই পার্বত্য এলাকা। তাই অ্যাম্বুলেন্সেরও দেখা নেই। বড়ো রাস্তায় পৌঁছেই একটি গাড়িতে করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন সকলে। কিন্তু সেখানে আবার ডাক্তার নেই। কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে এবার গন্তব্য অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথ। মে মাসেও মারগান গিরিপথের দু’দিকে বরফ জমে রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় ছুটছে গাড়ি। কিন্তু আচমকা সব শেষ। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মায়ের গর্ভে মৃত্যু হল শিশুর। অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মা শাইস্তা বেগম। মাথার কাছে বসে সমানে কেঁদে চলেছেন মৃত শিশুর বাবা নাসির হুসেন লোন। শনিবার বিকেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছে। রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কথায়, বারংবার জানানো সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি।

Advertisement

নাসির হুসেন লোনের কথায়, ‘এখানে কেউ অন্তঃসত্ত্বা হলে মৃত্যুর সঙ্গে খেলা শুরু হয়। অনেক কষ্টে নিকটবর্তী নাওয়াপাচি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাই। কিন্তু সেখানে কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তাই আর সময় নষ্ট করিনি। মেডিক্যাল কলেজের দিকে রওনা দিই। কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না।’ 
দেহারনা মারওয়াহ তালুকের অন্তর্গত একটি ছোটো পাহাড়ি এলাকা। এই মারওয়াহ উপত্যকায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। আর  চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয়দের বক্তব্য, অধিকাংশ সময় সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবার কোনো চিকিৎসক থাকেন না। অন্তঃসত্ত্বাদের রেফার করে দেওয়া হয় অনন্তনাগ বা কিস্তওয়ার শহরে। স্থানীয় এক বয়স্ক ব্যক্তির কথায়— বাকিটা কপাল। পাহাড় চাইলে শিশু পৃথিবীর আলো দেখে নয়তো মায়ের গর্ভেই শেষ। জানি না আর কত শিশুর মৃত্যুর পর সরকার আমাদের উপর দয়া করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ