Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং নয়, আয় বাড়াতে সিদ্ধান্ত

অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং নয়, আয় বাড়াতে সিদ্ধান্ত
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চম্পাসারির পর আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত চালু করছে হোর্ডিং ফি। নিজস্ব আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত অফিস সূত্রে খবর, তাদের অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র কেউ বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং দিতে পারবে না। এজন্য অনুমতি নিয়ে মাসিক ফি দিলে তবেই হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স ঝোলানো যাবে। ইতিমধ্যে তারা বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। শীঘ্রই বেআইনি হোর্ডিং খুলতে অভিযানে নামা হবে। 

Advertisement

পঞ্চায়েত প্রধান যূথিকা রায় খাসনবিশ বলেন, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি হোর্ডিংয়ে ঢেকে গিয়েছে। এতে দৃশ্যদূষণ হচ্ছে। যেখানে সেখানে অপরিকল্পিত ভাবে বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স লাগানো নিয়ন্ত্রণ করতেই ফি চালু করা হচ্ছে। এতে গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনই গ্রামের সৌন্দর্য রক্ষা করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে বুথে বুথে প্রচার অভিযান চলছে।
শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে আঠারোখাই অন্যতম। এই পঞ্চায়েতে আসন ৩০টি। মাটিগাড়া বিডিও অফিস, নেতাজিপল্লি, অমরপল্লি, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, শিবমন্দির, বালাসন, বড় মোহন সিং জোত প্রভৃতি এলাকা কার্যত শহরের রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বেসরকারি স্কুল, নার্সিংহোম, আবাসন, শপিংমল, হোটেল, বাজার রয়েছে। ওসব জায়গা বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ে ছয়লাপ। কোথাও বাড়ির ছাদে লোহার কাঠামো বানিয়ে হোর্ডিং বসানো হয়েছে। কোথাও রাস্তার ধারে কিংবা ফাঁকা জমিতে বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ফ্লেক্স, ব্যানার ঝোলানো। এছাড়াও বাড়ি, দোকান, সরকারি বেসরকারি অফিস ভবনের বাইরের দেওয়ালে সাঁটা হচ্ছে পোস্টার। 
গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে একসময় বিডিও অফিস, শিবমন্দির চত্বর থেকে দেখা যেত কার্শিয়াং পাহাড়ের সৌন্দর্য। এখন বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ের দাপটে সেই সৌন্দর্য আর দেখা যায় না। তাছাড়া কিছু রাস্তার মোড়ে অপরিকল্পিতভাবে হোডিং দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বোর্ডের সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স থেকে ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাই-ল’তেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্সের ফি মাসিক ২.৫ টাকা (সর্বোচ্চ) প্রতি বর্গফুট হিসেবে চালু করা হয়েছে। এজন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং বসাতে হবে। অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স অবৈধ ঘোষণা করা হবে। সেগুলি গ্রামের রাস্তা থেকে খুলে নেওয়া হবে। তবে জনস্বার্থে প্রচারিত সরকারি পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং থেকে ফি নেওয়া হবে না। 
কয়েক মাস আগে চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েত হোর্ডিং ফি চালু করে। তারা বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার চালিয়ে বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাড়া পেয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান জনক সাহা বলেন, বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স লাগাতে অনুমতির জন্য বেশকিছু সংস্থা পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করেছে। ইতিমধ্যে কিছু ফি’ও আদায় হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ