নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে চাপানো যাবে না বাড়তি কর। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে ‘নির্মল বাংলা’ সংক্রান্ত রাজ্যস্তরীয় এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানিয়ে দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। বুধবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক সভা থেকে পুরসভাগুলিতে কর বাড়ানো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্যকে সামনে রেখে এদিন এ বিষয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সতর্ক করে
দেন প্রদীপবাবু। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওরকম বাড়তি কর চাপানো যাবে না। এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পুরসভাগুলি ট্যাক্স বাড়াচ্ছে। এটা করা যাবে না...শুধুমাত্র ট্যাক্স বাড়ানো কারও কাজ নয়। নিজেদের গাড়ি চড়ার জন্য এটা করবেন, হতে পারে না।’ সেই সঙ্গে যথাযথ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় জোর দিতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ‘নির্মল বাংলা’র অনুষ্ঠানে যথাযথ বর্জ্য সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের কথা বলতে গিয়ে পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়তি কর না চাপানোর বিষয়টি উঠে আসে মন্ত্রীর বক্তৃতায়। তাঁর মতে, কর বৃদ্ধির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এই কাজের জন্য যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ আছে। হাতে রয়েছে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। তাছাড়া, রাজ্যের প্রস্তাব মেনে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের শর্তাধীন তহবিলের একাংশও এই কাজের জন্য ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দিল্লি। ফলে
কঠিন বর্জ্য অপসারণ ও প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে শৌচাগার নির্মাণ—কোনও ক্ষেত্রেই আর্থিক সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না ও শিউলি সাহা ছাড়াও এদিন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের সচিব পি উলগনাথন, ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সন্তোষা জিআর সহ অন্যান্যরা। গ্রামীণ এলাকায় বাড়িতে শৌচাগার তৈরির জন্য আবেদনের ভিত্তিতে ১২ হাজার টাকা করে দেয় সরকার। কাজ শুরু করতে অগ্রিম দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা। তা বাড়িয়ে ছ’হাজার টাকা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বেচারামবাবু। বিডিওদের আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্চায়েত সচিব। শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিডিওরা ভালো কাজ করলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁদের কাজগুলি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এদিন একাধিক মহকুমা শাসক এবং বিডিওকে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।