Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দকুমারে ভোট এড়িয়ে এক টেবিলে বসে আসন রফা তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএমের

নন্দকুমারে ভোট এড়িয়ে এক টেবিলে বসে আসন রফা তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএমের
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: ভোট মানেই হারজিতের ফয়সালা। যেকোনও খেলার মতো এখানেও একপক্ষ জিতবে, অন্যরা পরাজিত হবে। ভোটে হারজিতের এই অনিশ্চয়তায় না গিয়ে নন্দকুমারে এক টেবিলে বসে সমবায় ভোটের আসন ভাগাভাগি সেরে ফেলল তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম। আসন সমঝোতার পর হাতে হাত মিলিয়ে তিন দলের তিন নেতার উপলব্ধি, ‘নোট ভোট, নোট রিস্ক।’ নন্দকুমার ব্লকে চক শিমুলিয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে এই বেনজির ঘটনা ঘটেছে। ৫৭ আসনের এই সমবায়ে তৃণমূল ২৩টি, বিজেপি ২৩টি এবং সিপিএম ১১টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট। আপাতত ভোট হয়নি। তিন দলের ৫৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেলিগেট (প্রতিনিধি) হিসেবে জয়ী। ডেলিগেটদের মধ্য থেকে ১২ জন ডিরেক্টর নির্বাচিত হওয়ার কথা। সেখানেও আসন ভাগাভাগি সেরে ফেলা হয়েছে। তৃণমূল পাঁচটি, বিজেপি পাঁচটি এবং সিপিএম দু’টি ডিরেক্টর পদ পেয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাসে ব্যাঙ্ক পরিচালন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। বোর্ডের ওই দুই শীর্ষ পদও তৃণমূল এবং বিজেপি রফা করার কথা সেরে রেখেছে।
Advertisement
নন্দকুমার ব্লকের চক শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ওই সমবায় সমিতি প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষগোট, চক শিমুলিয়া, চক দুর্গাবসান, পাণ্ডববসান, দামোদরপুর, নছিপুর এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ ওই সমবায় সমিতির সদস্য। সমিতির মোট ডেলিগেট সংখ্যা ৫৭ জন। গত ১ ডিসেম্বর ডেলিগেট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম নেতারা এক টেবিলে বসে মিটিং করে আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। প্রতিটি আসনে একজন করে মনোনয়ন জমা করায় ভোট হয়নি। আগামী ২৭ ডিসেম্বর নাগাদ ১২ জন ডিরেক্টর নির্বাচন হওয়ার কথা। ৫৭ জন ডেলিগেটের মধ্য থেকে ১২ জন ডিরেক্টর নির্বাচিত হবেন। ওইদিন ভোটাভুটি এড়াতে তিন পার্টির নেতারা ৫: ৫: ২ ফর্মুলায় আসন বণ্টন করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের চক শিমুলিয়া অঞ্চল সভাপতি বিশ্বজিৎ মাইতি, বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সত্যনারায়ণ সিংহ এবং সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য লক্ষ্মণ সামন্ত তিন দলের পক্ষ থেকে আসন রফা করেছেন। তিনজন এক জায়গায় বসে ডেলিগেট থেকে ডিরেক্টর পদে আসন ভাগাভাগি করেছেন। সত্যনারায়ণবাবু আগে তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধানও ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আসন রফায় ওই দলবদলু নেতা ভূমিকা নেওয়ায় বিজেপির আদি গোষ্ঠীর নেতারা বেজায় খাপ্পা। এই সমঝোতার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতৃত্ব জেলা নেতৃত্বের কাছে নালিশ ঠুকেছে। আসন সমঝোতা করে চাপে পড়ে গিয়েছেন নব্য গোষ্ঠীর ওই বিজেপি নেতা।
এনিয়ে বিশ্বজিৎবাবু বলেন, আমরা তিন দলের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগি করেছি। সমবায় সমিতির আর্থিক অবস্থা ততটা ভালো নয়। ভোট পরিচালনা করতে অনেক খরচ। সেই খরচ বাঁচাতে এই পদক্ষেপ। সত্যনারায়ণবাবু বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এখানে ভোট হয়নি। সমবায়ীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিচালন বোর্ড গঠন করেন। এবারও সেই ধারা বজায় রেখে আসন বণ্টন করা হয়েছে। লক্ষ্মণবাবু বলেন, ভোট পরিচালনা করতে প্রায় পৌনে দু’লক্ষ টাকা খরচ হতো। সেই খরচ বাঁচানোর জন্য আমরা তিনজন একত্রে বসে আসন বণ্টন করে ভোট প্রক্রিয়া এড়িয়ে বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি।  
সম্পর্কিত সংবাদ