নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামিকাল, রবিবার নন্দীগ্রামের করপল্লিতে শহিদ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে শুক্রবার সকালে মঞ্চবাঁধা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির একপ্রস্থ ঝামেলায় উত্তেজনা ছড়ায়। শহিদবেদি লাগোয়া জায়গায় তৃণমূল এদিন মঞ্চ বাঁধতে গেলে বাধা দেয় বিজেপি। তাদের বক্তব্য, সেখানে জায়গা ছেড়ে কিছুটা দূরে তৃণমূলকে মঞ্চ বাঁধতে হবে। শহিদবেদি লাগোয়া জায়গায় মঞ্চ তৈরি করবে গেরুয়া পার্টি। মঞ্চ বাঁধা নিয়ে ঝামেলা হতেই শুক্রবার থানায় হাজির হন তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গ, স্বদেশ দাস, শেখ সুপিয়ানরা। পুলিসের হস্তক্ষেপে তৃণমূল কংগ্রেস মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু করে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১০নভেম্বর রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটিয়েছিল সিপিএম। হার্মাদ বাহিনীর গুলিতে জমি আন্দোলনকারী শ্যামলী মান্না ও রেজাউল করিম মারা যান। এছাড়াও প্রায় ২৬০জনকে মারধর করে খেজুরির আমড়াতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ১১জন নিখোঁজ হন। আজও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। ওই নৃশংস গণহত্যার পর নন্দীগ্রাম-তেখালি ব্রিজ পিচ রাস্তার ধারে করপল্লিতে শহিদবেদিতে গড়ে ওঠে। ২০০৮সাল থেকেই নন্দীগ্রাম-১ব্লকের করপল্লিতে শহিদ স্মরণ সভা পালন করছে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। গত বছর বিজেপিও একই ব্যানারে সেখানে আলাদা মঞ্চে শহিদ স্মরণ সভা আয়োজন করছে। দুই দলের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান নিয়ে যাতে কোনও ঝামেলা না হয় তারজন্য সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের করপল্লিতে ওই শহিদবেদিতে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানাবে বিজেপি। গেরুয়া পার্টির লোকজন চলে যাওয়ার পর ১০টা থেকে একই শহিদবেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। একই জায়গায় পাশাপাশি মঞ্চ করে শহিদ স্মরণ নিয়ে যাতে ঝামেলা না হয়, সেই জন্য প্রচুর ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
Advertisement
নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের পর ১৭বছর সময় কেটে গিয়েছে। এই ১৭বছরে তেখালি খাল দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। জমি আন্দোলনের শহিদ এবং নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যেও বিভাজন এসেছে। তাঁদের একটা অংশ তৃণমূলের দিকে আছে। অপর অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে ওইসব পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানায় দুই দল। শহিদ স্মরণ সভা থেকেই দুই দলের নেতৃত্ব পরস্পরের মধ্যে আকচাআকচিতে জড়ায়। এতে বিড়ম্বনায় পড়ে জমি আন্দোলনে স্বজন হারানো পরিবারগুলি।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্বদেশ দাস বলেন, এদিন সকালে আমরা করপল্লিতে মঞ্চ বাঁধছিলাম। সেই কাজে বাধা দেয় বিজেপির লোকজন। তারপর আমরা থানায় পৌঁছই। পুলিসের হস্তক্ষেপে ঝামেলা মিটে গিয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে আমরা করপল্লির শহিদবেদিতে শ্রদ্ধা জানাব। রাজ্য থেকে নেতৃত্ব আসার কথা আছে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, শুক্রবার সকালে শহিদবেদির পাশে মঞ্চ তৈরি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ১০তারিখ আমরা সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে শহিদবেদিতে মাল্যদান করব। আমাদের পর তৃণমূল কর্মসূচি নেবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্বদেশ দাস বলেন, এদিন সকালে আমরা করপল্লিতে মঞ্চ বাঁধছিলাম। সেই কাজে বাধা দেয় বিজেপির লোকজন। তারপর আমরা থানায় পৌঁছই। পুলিসের হস্তক্ষেপে ঝামেলা মিটে গিয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে আমরা করপল্লির শহিদবেদিতে শ্রদ্ধা জানাব। রাজ্য থেকে নেতৃত্ব আসার কথা আছে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, শুক্রবার সকালে শহিদবেদির পাশে মঞ্চ তৈরি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ১০তারিখ আমরা সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে শহিদবেদিতে মাল্যদান করব। আমাদের পর তৃণমূল কর্মসূচি নেবে।



