নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম থানার ভেকুটিয়ায় সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন গৃহকর্তারও মৃত্যু হল। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটিতে চিকিৎসাধীন গৃহকর্তা কানাইলাল জানার(৫৭) মৃত্যু হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কানাইলালবাবুর বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় জানা ও মানস গিরি নামে দু’জনের মৃত্যু হয়। কানাইলালবাবু সঙ্কটজনক অবস্থায় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনার ১৭দিনের মাথায় গৃহকর্তার মৃত্যু হল।
Advertisement
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা নাগাদ কানাইলালবাবুর বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল। মনুচক জালপাই গ্রাম থেকে মিস্ত্রি মৃত্যুঞ্জয় জানা এসেছিলেন। কানাইলালবাবুর বেয়াই মানসবাবু ওই মিস্ত্রিকে এনেছিলেন। সাড়ে ৮টা নাগাদ ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে কিছুটা জল তুলে সিঁড়ি নামিয়ে প্রথমে মৃত্যুঞ্জয়বাবু ভিতরে ঢোকেন। সেখানে কোমর সমান জল ছিল। বিষাক্ত গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধে মৃত্যুঞ্জয়বাবু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে সাহায্য করতে নেমে সংজ্ঞাহীন পড়ে পড়েন মানসবাবুও। ট্যাঙ্কের ভিতরে যাওয়া দু’জনের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে কানাইলালবাবু সন্দেহ হয়। তিনি সাহায্য করার জন্য সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে জ্ঞান হারান।
পর পর তিনজনকে এভাবে ট্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে যেতে দেখে চিৎকার করেন কানাইলালবাবুর বড় পুত্রবধূ ঝুমা জানা। মানসবাবু ঝুমাদেবীর বাবা। বাবা, শ্বশুর সহ তিনজন বিপদে পড়েছে বুঝে তিনি কিছুটা নেমে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাঁরও মাথা ঘুরে যায়। ফলে তিনি কোনওরকমে উপরে ওঠে আসেন। এরপর কানাইলালবাবু স্ত্রী কাজল জানা চিৎকার করতেই প্রতিবেশীরা আসেন। তাঁরা সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা পর পর তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বাইরে বের করে আনেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কানাইলালবাবু সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষমেশ তাঁরও মৃত্যু হল।
সম্প্রতি লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদারকে। তারপরও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার সময় ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে না। যেকারণে নন্দীগ্রামে এতবড় ঘটনা ঘটল। সুরক্ষাকবচ ছাড়া এধরনের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার পবিত্র হালদার বলেন, ওই ঘটনায় হাসপাতালে আনার পথে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
কানাইলালবাবুর স্ত্রী বলেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনজনের প্রাণ চলে গেল। বিষাক্ত গ্যাসে আগেই আমার বেয়াই এবং মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা আমার স্বামীরও মারা গেলেন। সেপটিক ট্যাঙ্কে এতবড় বিপদ অপেক্ষা করেছিল আমরা বুঝতেও পারিনি।
পর পর তিনজনকে এভাবে ট্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে যেতে দেখে চিৎকার করেন কানাইলালবাবুর বড় পুত্রবধূ ঝুমা জানা। মানসবাবু ঝুমাদেবীর বাবা। বাবা, শ্বশুর সহ তিনজন বিপদে পড়েছে বুঝে তিনি কিছুটা নেমে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাঁরও মাথা ঘুরে যায়। ফলে তিনি কোনওরকমে উপরে ওঠে আসেন। এরপর কানাইলালবাবু স্ত্রী কাজল জানা চিৎকার করতেই প্রতিবেশীরা আসেন। তাঁরা সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা পর পর তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বাইরে বের করে আনেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কানাইলালবাবু সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষমেশ তাঁরও মৃত্যু হল।
সম্প্রতি লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদারকে। তারপরও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার সময় ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে না। যেকারণে নন্দীগ্রামে এতবড় ঘটনা ঘটল। সুরক্ষাকবচ ছাড়া এধরনের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার পবিত্র হালদার বলেন, ওই ঘটনায় হাসপাতালে আনার পথে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
কানাইলালবাবুর স্ত্রী বলেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনজনের প্রাণ চলে গেল। বিষাক্ত গ্যাসে আগেই আমার বেয়াই এবং মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা আমার স্বামীরও মারা গেলেন। সেপটিক ট্যাঙ্কে এতবড় বিপদ অপেক্ষা করেছিল আমরা বুঝতেও পারিনি।



