Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে শিক্ষকের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু, পুলিসের দ্বারস্থ বাবা

নন্দীগ্রামে শিক্ষকের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু, পুলিসের দ্বারস্থ বাবা
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গৃহশিক্ষকের বাড়ি থেকে পড়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল নন্দীগ্রামে। নিহত ছাত্রের নাম শ্যামসুন্দর মিদ্যা(১৭)। বাড়ি নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের খোদামবাড়ি গ্রামে। সে খোদামবাড়ি ইউনিয়ন ভূতনাথ প্রধান উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্র খোদামবাড়ি গ্রামেরই শিবপ্রসাদ মাইতির বাড়িতে গিয়েছিল। রাত ৮টা নাগাদ তাঁর বাড়ির তিনতলা ছাদ থেকে শ্যামসুন্দর পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুক্রবার ওই ছাত্রের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পাশাপাশি এদিন ওই ছাত্রের বাবা কৃষ্ণগোপাল মিদ্যা গোটা ঘটনায় তদন্ত চেয়ে নন্দীগ্রাম থানায় একটি এফআইআর করেছেন। কীভাবে তাঁর একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হল তার কারণ জানতে চান অসহায় বাবা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামসুন্দর মাধ্যমিক পর্যন্ত শিবপ্রসাদ মাইতির কাছে টিউশনি পড়ত। উচ্চ মাধ্য‌঩মিক পাশ করার জন্য অন্যত্র টিউশনি পড়ত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বই নেওয়ার জন্য গৃহশিক্ষকের বাড়িতে যায়। সেখানে কথাবার্তা চলাকালীন তার মোবাইল বেজে ওঠে। তখন ফোন রিসিভ করেই ওই ছাত্র ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। ওই গৃহশিক্ষকের অনুমান, শ্যামসুন্দর নিজের বাড়িতে রওনা দিয়েছে। কিছুক্ষণ পর বাড়ির পাশে কিছু পড়ার আওয়াজ শুনতে পান ওই গৃহশিক্ষকের স্ত্রী। তিনি তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানানোর পর ওই গৃহশিক্ষক বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখেন, শ্যামসুন্দর পড়ে রয়েছে। শরীরে কোথাও কোনও দাগ নেই। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই লোকজন জড়ো হন। তড়িঘড়ি ওই ছাত্রকে স্থানীয় রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, তার আগেই সব শেষ।
শ্যামসুন্দরের বাবা কৃষ্ণগোপাল মিদ্যা সিমেন্টের খুঁটি, বিভিন্ন মূর্তি ও সামগ্রী তৈরি করেন। শ্যামসুন্দর তাঁর একমাত্র সন্তান। তার অকাল মৃত্যুতে শোকে পাথর গোটা পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান খোদামবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা নন্দীগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুনীল প্রধান। শুক্রবার ময়না তদন্তের পর দেহ গ্রামে পৌঁছতেই কাতারে কাতারে মানুষ শেষ দেখার জন্য হাজির হয়। ওই ছাত্র গৃহশিক্ষকের বাড়ির তিনতলা ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়েছে নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। 
কৃষ্ণগোপালবাবু বলেন, শ্যামসুন্দর আমার একমাত্র সন্তান। পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো ছিল। গত বছর মাধ্যমিক দেওয়ার পর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিবপ্রসাদ মাইতির বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানেই ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 
স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সুনীল জানা বলেন, অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, একটি অভিযোগ হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ