Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে পদ্মে ভাঙন, দলত্যাগ সরব নেতাদের, গোকুলনগর পঞ্চায়েতে আর্থিক কেলেঙ্কারি

নন্দীগ্রামে পদ্মে ভাঙন, দলত্যাগ সরব নেতাদের, গোকুলনগর পঞ্চায়েতে আর্থিক কেলেঙ্কারি
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে বিজেপি ছাড়লেন একঝাঁক নেতা-কর্মী। রবিবার মহেশপুর হাইস্কুলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দল ছাড়েন জেলা কমিটির সদস্য অশোক করণ, পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস দাস সহ আরও অনেকে। নতুন বছরের গোড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে সভা করতে পারেন। সেই সভায় বিজেপি ত্যাগ করা নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ দেবাশিসবাবুর বাড়ি যান। সন্ধ্যায় জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বিজেপি ঩ছেড়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গোকুলনগর সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বেশ কয়েকজন বিজেপির সদস্যও শীঘ্রই দেবাশিসবাবুদের পথ অনুসরণ করতে চলছেন।
Advertisement
রবিবার সকালে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের মনোহরপুরে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছিল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। নন্দীগ্রাম-২ব্লকে ওই সম্প্রচার চলাকালীন নন্দীগ্রাম-১ব্লকের মহেশপুরে বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা করে একসময়ের নন্দীগ্রাম বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বরা। দলে গুরুত্ব না পেয়ে শেষপর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিতে হল বলে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা পেশায় শিক্ষক দেবাশিসবাবু দাবি করেন। ২০২৩ সালে নন্দীগ্রাম-১পঞ্চায়েত সমিতি টাই হয়েছিল। দুই দল ১৫টি করে আসনে জয়ী হয়। টসের মাধ্যমে বোর্ড গঠন হয়। সভাপতি পদ পায় বিজেপি। এদিন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বিজেপি ছাড়ায় ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপি সংখ্যালঘু হয়ে পড়ল। আগামী দিনে এই পঞ্চায়েত সমিতি দখলের জন্য ঝাঁপাবে শাসক দল।
নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে দেবাশিস দাস, অশোক করণরা খুবই পরিচিত মুখ। অশোকবাবু ২০১৬-’১৯ গোকুলনগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। দেবাশিসবাবু নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের প্রথমসারির মুখ। ২০০৩ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। ২০২০ সালে ডিসেম্বর মাসে ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে তাঁরা ঘনিষ্ঠদের নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। চার বছর বাদে তাঁরা বিজেপি ত্যাগ করলেন। এবার ফের পুরনো দলে ফেরার অপেক্ষা! গোবর্ধন দাস, গৌতম দাস সহ অনেক বিজেপি নেতা এদিন দল ছাড়েন। 
বিজেপি ছাড়ার প্রসঙ্গে রবিবার দেবাশিসবাবু বলেন, কর্মীদের একটা বড় অংশ উন্মত্ত, উচ্ছৃঙ্খল। দলে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করার কথা বলেও কাজ হয়নি। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত সমিতিতে আমাকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ করা হয়। কিন্তু, কাজের সুযোগ ছিল না। আমি ৫সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিডিওকে চিঠি দিয়েছি। এখনও তিনি সেই চিঠি রিসিভ করেননি। বিডিও-র কাছে অনুরোধ, দ্রুত ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হোক। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে বিজেপি গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে। সেখানে এক বছরের মধ্যে ৫০লক্ষ টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। অডিটে বিষয়টি ধরা পড়েছে। আমরাই এনিয়ে প্রতিবাদ করেছি। এরকম একটি দুর্নীতির ঘটনা ঘটার পরও নেতৃত্ব নিশ্চুপ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বরং নেতৃত্ব আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে, আমরা দলে না থাকলেও চলবে। এই অবস্থায় আমরা নিরুপায় এবং অসহায়। তাই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি আপাদমস্তক একটা দুর্নীতিগ্রস্ত দল। বিভাজনের রাজনীতি করে। কোনও ভদ্রলোক এই পার্টিতে থাকতে পারে না। তাই দেবাশিস দাস, অশোক করণের মতো নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা আমাদের দলে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হবে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, স্থানীয়স্তরে কিছু বিষয় নিয়ে দেবাশিসবাবুদের সঙ্গে দলের একাংশের মতপার্থক্য হয়েছিল। এনিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছিল। তারপর ওরা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ