নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মঙ্গলবার তমলুকের নিমতৌড়িতে জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। মৃতদের নাম ধনঞ্জয় সামন্ত(৩০) ও বনশ্রী সামন্ত(৭)। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন ধনঞ্জয়বাবুর স্ত্রী মধুমিতা সামন্ত ও তাঁদের তিন বছরের ছেলে বলরাম সামন্ত। তাঁদের বাড়ি তমলুক থানার বড়বড়িয়া গ্রামে। আত্মীয়ের বাড়ি থেকে স্কুটিতে বাড়ি ফেরার সময় ৪১নম্বর জাতীয় সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক সিগন্যাল বিভ্রাটে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলে পুলিসের কিয়স্ক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ক্ষিপ্ত জনতা। পুলিসকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। দেহ তুলতে বাধা দেওয়া হয়। কোলাঘাট-হলদিয়া জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষশেষে দীঘা যাওয়ার জন্য প্রচুর গাড়ির চাপ ছিল। তারমধ্যেই দুর্ঘটনায় যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ হওয়ায় জাতীয় সড়কে দীর্ঘ গাড়ির লাইন পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল বাহিনী পৌঁছে যায়। পুলিসের সঙ্গে ক্ষিপ্ত জনতার তীব্র বাদানুবাদ বাধে। কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল শুরু করে পুলিস।
Advertisement
জানা গিয়েছে, ধনঞ্জয়বাবু বেঙ্গালুরুতে ফুলের কাজ করেন। কর্মসূত্রে সেখানেই থাকেন। সম্প্রতি বাড়ি এসেছিলেন। এদিন সপরিবারে তমলুকের নারকেলদা গ্রামে বোনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বিকেলে বোনের বাড়ি থেকে স্কুটিতে সপরিবারে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটি পড়ে যায়। সেই সময় তেলের ট্যাঙ্কার ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও দু’জন। দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভের মুখে পড়ে ট্রাফিক পুলিস। সিগন্যালিংয়ে ত্রুটির জেরেই দুর্ঘটনা বলে ক্ষিপ্ত জনতার দাবি। তারপরই ট্রাফিক কিয়স্ক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।



