Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিমেষের মধ্যে মোবা‌ইল হাতসাফাই! জেলায় ত্রাস হয়ে উঠছে ঝাড়খণ্ডের নাবালক গ্যাং

নিমেষের মধ্যে মোবা‌ইল হাতসাফাই! জেলায় ত্রাস হয়ে উঠছে ঝাড়খণ্ডের নাবালক গ্যাং
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: ট্রেনে ত্রাস ঝাড়খণ্ডের নাবালক গ্যাং। পিঠে ব্যাগ। বেশভুষায় খানিক চাকচিক্য। ঝলকে দেখলে মনে হবে আপাত নিরীহ  স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু হাত সাফাইয়ে সকলেই ওস্তাদ! একটু অন্য মনস্ক হলেই যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, মানিপার্স তুলে নিচ্ছে খুদে গ্যাংয়ের সদস্যরা। ট্রেনের পাশাপাশি স্টেশনেও তারা বেশ সক্রিয়। রামপুরহাটের রেল জংশনে ঘটে যাওয়া পর পর বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে এই খুদে গ্যাংয়ের অপকীর্তি। 
Advertisement
রামপুরহাট জংশনে প্রায়ই মোবাইল, মানিব্যাগ প্রতিদিন খোয়া যাচ্ছে যাত্রীদের। কখনও ট্রেনে ওঠার সময় যাত্রীদের ব্যাগ কেটে টাকা, মোবাইল নিয়ে চম্পট দিচ্ছে কে বা কারা। কখনও যাত্রী সেজে ট্রেনে উঠে ব্যাগ নামিয়ে নিচ্ছে। কখনও আবার বৃদ্ধদের টার্গেট করে তাঁর গায়ে থুথু ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  সঙ্গে থাকা যাত্রীরা অভিযুক্তের পিছু ধাওয়া করলে অপর একজন  বৃদ্ধার ব্যাগ ছিনিয়ে চম্পট দিচ্ছে। এমনই নানা কায়দায় অহরম ছিনতাই হচ্ছে রামপুরহাট স্টেশন। প্রতিদিন এই রেল জংশন দিয়ে তারাপীঠে আসা যাওয়া করেন হাজার হাজার যাত্রী। অনেকে সর্বস্ব খুইয়ে লিখিত অভিযোগও করছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। জিআরপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, পুরো স্টেশন চত্বরে সিসি ক্যামেরা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু সম্প্রতি পুরো স্টেশন সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। যা ফলাও করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে রেল। তারপরও ছিনতাই, চুরির মতো ঘটনা ঘটছে। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পেরেছে, অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত নাবালকরা। যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ এর মধ্যে। সবার বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। ভোরের ট্রেনে আসছে। দিনভর অপকর্ম করে সন্ধ্যার ট্রেনে ফিরে যাচ্ছে। 
 গত সোমবার ভাগলপুর-হাওড়া ডাউন বন্দেভারত ধরতে এসে এক নামজাদা কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থপ্রতিম রায়ের মোবাইল চুরি যায়। জিআরপির কাছে তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, ট্রেনে ওঠার সময় তার মোবাইল খোওয়া যায়। তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে জিআরপি। সেখানে দেখা যায়, এক নাবালক ভিড়ের মাঝে সুকৌশলে পার্থপ্রতিমবাবুর পকেট থেকে মোবাইল তুলে নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ওই নাবালকের ছবি পাঠিয়ে তারা জানতে পারেন, ঝাড়খণ্ডের তিনপাহাড় এলাকায় তার বাড়ি। বয়স মেরেকেটে ১৩ বছর। তাকে আটক করে মোবাইলটি উদ্ধার করে। নাবালক হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। 
রেলের এক আধিকারিক বলেন, নাবালকররা না বুঝেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসবের পিছনে কাজ করছে অপরাধ সাম্রাজ্যের বড় মাথাদের সংঘবদ্ধ চক্র। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের নামমাত্র টাকা দিয়ে খুদেদের কাজে লাগানো হচ্ছে। মাদক ব্যবহারের মাধ্যমে এরা নিজেরাই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। খুদেরা অনেক সময় সন্দেহের তালিকায় থাকে না বলে অপরাধ করানো সহজ। রামপুরহাট জিআরপি আইসি সুখেন্দু মণ্ডল বলেন, ‘যেকোনও ধরণের অপরাধ দমনে আমরা সর্তক। জংশনের নিরাপত্তা কয়েকগুন বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ