Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

নাম-সংকীর্তন

নাম-সংকীর্তন
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীচৈতন্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি নাম-সংকীর্তন। সংকীর্তনের সাম্যক্ষেত্র শ্রীচৈতন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের বিশুদ্ধ মনে একবার বাসনা হল তিনি শ্রীচৈতন্যের সংকীর্তন করতে করতে নগর প্রদক্ষিণ করা দেখবেন। দক্ষিণেশ্বরে একদিন নিজের ঘরের বাইরে উত্তরের বারাণ্ডায় দাঁড়িয়েছিলেন। অকস্মাৎ তাঁর চোখের সামনে থেকে যেন পর্দা উঠে গেল। তিনি ভাবচক্ষে দেখতে পান যে পঞ্চবটীর দিক থেকে একটি বিরাট সংকীর্তনতরঙ্গ তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বাঁক নিয়ে কালীবাড়ির প্রধান ফটকের দিকে চলে যাচ্ছে। অসীম জনতা হরিনামে উদ্দাম-উন্মত্তপ্রায় হয়ে উঠেছে। সংকীর্তনপ্রবাহের মধ্যভাগে শ্রীচৈতন্য, নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্য। শ্রীচৈতন্য হরিপ্রেমে মাতোয়ারা। তাঁর প্রেমানন্দ বিচ্ছুরিত হয়ে চারিদিকে অপর সকলকে অভিভূত করছে। লোকসমাবেশ দেখে মনে হচ্ছিল যেন জনসমুদ্র। এই জনসমুদ্রের মধ্যে তিনি দেখতে পান তাঁর দুজন চিহ্নিত অন্তরঙ্গ ভক্তকে—বললাম বসু ও মহেন্দ্রনাথ গুপ্তকে। তাঁর প্রত্যয় হয় শ্রীচৈতন্যের দুইজন লীলাসহচরই তাঁর পার্ষদরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
Advertisement
খাঁটি হরি-সংকীর্তনে প্রেমের বিচ্ছুরণ ঘটে। সংকীর্তনের তীব্র আকর্ষণ। এই আকর্ষণ নিজে আস্বাদন করাবার জন্য ও বৈষ্ণব সমাজের নেতৃস্থানীয় গোস্বামীদের সামনে প্রদর্শন করবার জন্য শ্রীরামকৃষ্ণ সাতদিনব্যাপী এক বিচিত্র হরিসংকীর্তনের নেতৃত্ব দান করেন। পুঁথিকার লিখেছেন, ‘হেন কীর্তনের কথা কোথাও না শুনি।/মহাসংকীর্তন নামে ইহারে বাখানি।’ ফুলুই শ্যামবাজারে নটবর গোস্বামীর আমন্ত্রণে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণকে কীর্তনানন্দ দান করবার জন্য নটবর রামজীবনপুরের প্রসিদ্ধ কীর্তনীয়া ধনঞ্জয় দে ও কৃষ্ণগঞ্জের খোলবাদক রাইচরণ দাসকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এলেন। রাইচরণের খোলবাজনা আরম্ভ হতেই শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবিষ্ট হন, কীর্তন শুরু হতেই তিনি ভাবতরঙ্গে আসতে থাকেন। তাঁকে কেন্দ্র করে চারিদিকে বসে যায় আনন্দের হাট। পরবর্তীকালে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, ‘ওদেশে যখন হৃদের বাড়িতে ছিলাম, তখন শ্যামবাজারে নিয়ে গেল। বুঝলাম গৌরাঙ্গ-ভক্ত। গাঁয়ে ঢোকবার আগে দেখিয়ে দিলে। দেখলাম গৌরাঙ্গ। এমনি আকর্ষণ—সাতদিন সাতরাত লোকের ভীড়! কেবল কীর্তন আর নৃত্য। পাঁচিলে লোক। গাছে লোক।
‘নটবর গোস্বামীর বাড়ীতে ছিলাম। সেখানে রাতদিন লোকের ভীড়। আমি আবার পালিয়ে গিয়ে এক তাঁতীর ঘরে সকালে গিয়ে বসতাম। সেখানে আবার দেখি, খানিক পরে সব গিয়েছে। সব খোল করতাল নিয়ে গেছে।
স্বামী প্রভানন্দের ‘বাংলার যুগলচাঁদ: শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ’ থেকে
সম্পর্কিত সংবাদ