Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিম্নমানের কাজে উঠে গিয়েছে রাস্তার পিচ, বেরিয়েছে পাথর

নিম্নমানের কাজে উঠে গিয়েছে রাস্তার পিচ, বেরিয়েছে পাথর
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার জন্য জলের পাইপলাইন বসানোকে দায়ী করছেন অনেকেই। কাউন্সিলারদেরও একই যুক্তি। যদিও শুধুমাত্র পাইপলাইন বসানোর জন্যই রাস্তাঘাটের অবস্থা যে বেহাল, এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন বাসিন্দাদের অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, পাইপলাইন বসানোর জন্য রাস্তায় গর্ত করতে হয়েছে। তারজন্য রাস্তার ক্ষতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু, শহরের বহু জায়গায় রাস্তা থেকে পিচের আস্তরণ একেবারে উঠে গিয়েছে। পাথর কার্যত দাঁত বের করে রয়েছে। বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। এসব তো আর পাইপলাইন বসানোর জন্য হয়নি। রাস্তা তৈরির সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। পুরসভার নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ হয়নি। সেকারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ফের বেহাল হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলারদের নজরদারি করা উচিত ছিল। তা তাঁরা করেননি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বেও কাউন্সিলাররা আপত্তি না তোলার পিছনে অনেকেই অন্য গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন। যদিও তা মানতে নারাজ কাউন্সিলাররা। তাঁদের ব্যাখ্যা, পাইপলাইন বসাতে অনেক সময় লাগছে। সেকারণে দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার করা যায়নি। তাছাড়া বর্ষার কারণে রাস্তায় জল জমে পিচ উঠে গিয়ে গর্ত হয়েছে। 
Advertisement
খোদ চেয়ারম্যানের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে থাকায় ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। ইছলাবাদ রোড থেকে ঘোষপাড়া যাওয়ার রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। রাস্তা থেকে পাথর বেরিয়ে রয়েছে। রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে। শিয়ালডাঙা-ঘোষপাড়া রাস্তাটিও বেহাল। বেশকিছু জায়গায় রাস্তায় গর্ত রয়েছে। ৫নম্বর ইছলাবাদের কিরণ সঙ্ঘের সামনের রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। বিধানপল্লি-ঘোষপাড়া রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। একই অবস্থা হ্যাচারি রোড যাওয়ার রাস্তাটিও। ওলাইচণ্ডীতলা থেকে ক্ষুদিরামপল্লি যাওয়ার রাস্তার বেশিরভাগ জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে পাথর বেরিয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণেই রাস্তাগুলির এই বেহাল অবস্থা বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ৮নম্বর ওয়াডেরর কালীবাজার থেকে ইছলাবাদ রাস্তা, নতুনপল্লি থেকে বাঁকাব্রিজের রাস্তার অবস্থা বেহাল। মিউনিসিপাল গার্লস হাইস্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়া কালীবাজার রোডে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত রয়েছে। অনেক জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে পাথর বেরিয়ে পড়েছে। ৮নম্বর ওয়ার্ডের কালনা গেট থেকে বিধানপল্লি যাওয়ার রাস্তার অত্যন্ত খারাপ অবস্থা। এই রাস্তা দিয়েই বর্ধমান বাণীপীঠ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যাতায়াত করে। রাস্তাটি এমনিতেই সংকীর্ণ। পিচের আস্তরণ নেই বললেই চলে। পাথর বেরিয়ে থাকায় সমস্যা হচ্ছে। নতুনপল্লি আদিবাড়ি কালীবাড়ি যাওয়ার রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। অরবিন্দপল্লি, নাড়ি কলোনি রোডের রাস্তার অবস্থাও বেহাল। মিঞার বেড়ের রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গায় পিচ উঠে গিয়েছে। ওয়ার্ডের নতুনপল্লি রোডের অবস্থাও খুবই খারাপ। ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে যাওয়া নতুনপল্লি দুর্গামন্দির যাওয়ার রাস্তাটিও বেহাল হয়ে পড়েছে। 
পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, ১০ ও ১১নম্বর ওয়ার্ডের কোনও রাস্তার অবস্থাই তেমন বেহাল নয়। শহরের রাস্তাঘাট নিয়ে নেতিবাচক প্রচার করা হচ্ছে। পাঁচ-ছ’বছর ধরে পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। কোথাও কোথাও পাইপ লাইনে লিক হচ্ছে। জল প্রকল্পের কাজ আগামী ছ’মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপর রাস্তাগুলি পুরোদমে সংস্কার করা হবে। পুলিস লাইনের কাছ থেকে শিয়ালডাঙার রাস্তাটি বাজার মোড় পর্যন্ত পেভার ব্লক দিয়ে করা হবে। ক্ষুদিরামপল্লির রাস্তাও পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি করা হবে। জল প্রকল্পের জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে, সংস্কার না হওয়ার কারণে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে, একথা ঠিক নয়।
সম্পর্কিত সংবাদ