Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিম্ন আদালতে সাজা ঘোষণার দু’ বছর পর হাইকোর্টে জামিন খুনের দুই আসামির

নিম্ন আদালতে সাজা ঘোষণার দু’ বছর পর হাইকোর্টে জামিন খুনের দুই আসামির
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামি দুজন। মামলা চলাকালীন এবং সাজা ঘোষণার পর সবমিলিয়ে ৮ বছর জেলবন্দি। কিন্তু হাইকোর্টে একবারের আবেদনই জামিন পেলেন দু’জনেই। তদন্তের একাধিক খামতি তুলে ধরে জামিন মঞ্জুর করে আদালত। গত ১৩ ডিসেম্বর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও অপূর্ব সিনহার ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছে। যদিও আবেদনের প্রায় দু’ বছর বাদে শুনানি হয় হাইকোর্টে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট গভীর রাতে হাঁসখালি থানার বগুলা কলেজ পাড়া এলাকায় খুন হয়েছিলেন বৃদ্ধা বীণাপাণি বিশ্বাস(৭০)। রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল এই ঘটনায়। তদন্তকারীরা খুন এবং ডাকাতির অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
 পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার হন বৃদ্ধার পুত্রবধূ অসীমা বিশ্বাস। পরে আবার ওই মহিলার প্রেমিক দেবাশিস ওঁরাওকেও বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। শেষমেশ খুন এবং খুনের ষড়যন্ত্রের ধারায় চার্জশিট দেন তদন্তকারীরা। এরপর সমস্ত দিক বিচার করে রানাঘাট মহকুমা আদালত ২০২২ আসলে ২৮ আগস্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় অসীমা ও তাঁর প্রেমিকের। 
যদিও রায়ের পরেই আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন এবং সাজার উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদন করার প্রায় ২ বছর বাদে ১৩ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হয়। যেখানে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অসীমা এবং তাঁর প্রেমিক দেবাশিসকে জামিন দিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত পক্ষের অন্যতম আইনজীবীর দাবি, খুনের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অসীমার প্রেমিক দেবাশিসের যোগের কোনও পোক্ত প্রমাণই পুলিস আদালতে তুলে ধরতে পারেনি। এছাড়াও অসীমা বর্তমানে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ। তাঁর নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে। এ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে দুজনের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতিদ্বয়। 
বিষয়টি নিয়ে অসীমা ও দেবাশিসের অন্যতম আইনজীবী সুমন রায় বলেন, দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল ষড়যন্ত্র করে খুন করার জন্য। অথচ পুলিস আগে অভিযোগ দায়ের করেছিল ডাকাতি ও খুনের। লুটপাট হওয়া মালও উদ্ধার হয়নি। জামিনের আদেশে মহামান্য বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, ষড়যন্ত্রের কোনও প্রমাণই সরকারপক্ষ নিম্ন আদালতে পেশ করতে পারেনি। 
নিম্ন আদালতের এই খামতি থাকা সত্ত্বেও দুজন দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন সাজা শোনানো হয় তাঁদের। উচ্চ আদালত সেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেই আবেদনের প্রথম শুনানির দিনেই জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছেন। 
কিন্তু এর মাঝে দুজনের জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছে। অসীমা নিজেই কঠিন শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ