নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় বহু চিকিৎসক রোগী দেখার পর প্রেসক্রিপশনে নিজেদের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করছেন না। ওষুধের দোকানের ছাপানো প্যাডে তাঁরা রোগীদের প্রেসক্রিশন লিখছেন। সেখানেই ওষুধের নাম, প্যাথলজি টেস্ট সহ নানা নির্দেশ লেখা থাকছে। মূলত সরকারি চিকিৎসকরাই এভাবে নাম ও পরিচয় ‘গোপন’ রেখে চুটিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের কাছ থেকে বিশেষ ভাতা(নন প্র্যাকটিশিং অ্যালাউন্স বা এনপিএ) নেওয়ার পরেও বেআইনিভাবে প্রাইভেটে চেম্বার করার ফলেই তাঁরা নিজেদের নাম গোপন রাখছেন বলে রোগীদের দাবি। সেই কারণেই তাঁরা ওষুধের দোকানের প্যাডে প্রেসক্রিপশন লিখছেন বলে রোগীর আত্মীয়রা মনে করছেন। বাঁকুড়া শহর সহ জেলার সর্বত্র ওই বেআইনি কারবার চললেও জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর কার্যত চোখ-কান বুজে রয়েছে বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন। সব কিছু দেখেও স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা না দেখার ভান করছেন।
Advertisement
আর জি কর কাণ্ডের পর আন্দোলনের নামে সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে চেম্বার করার অভিযোগ উঠেছিল চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারপরেও কেনও জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সবকিছু জানার পরেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, কোন চিকিৎসক কোথায় কীভাবে প্রেসক্রিপশন লিখছেন, তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, ‘নন প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ নেওয়ার পর কোনওভাবেই সরকারি চিকিৎসকরার প্রাইভেট চেম্বার করতে পারেন না। এমনকী, ওই ভাতা না নিলেও চেম্বারে রোগী দেখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়। তাছাড়া রোগীর প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকার নিয়ম রয়েছে। ওষুধের দোকানের প্যাডে কেউ রোগী দেখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মেডিক্যালের কোনও চিকিৎসক ওই ধরনের কাজ করছেন কি না, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।
সম্প্রতি বাঁকুড়া-২ ব্লকের বিকনা এলাকার বাসিন্দা বছর সাতাত্তরের এক বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি শহরের এক চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক সরকারি চাকরি করেন বলে বৃদ্ধের দাবি। চিকিৎসক ওই বৃদ্ধকে বাঁকুড়া শহরেরই একটি ওষুধের দোকানের প্যাডে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। প্রেসার মেপে তার উপরেই লিখে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল টেস্ট এবং ওষুধের নাম ও খাওয়ার নিয়মকানুন লেখেন ওই চিকিৎসক। চিকিৎসকের চেম্বারের পাশেই ওই ওষুধের দোকানটি রয়েছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই বৃদ্ধ বলেন, সরকারি চিকিৎসক হওয়ার কারণেই তিনি নিজের নাম ও রেজিস্ট্রেশন প্রেসক্রিপশনে লেখেননি বলে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানের কর্মীরা আমাকে জানিয়েছেন। তবে চিকিৎসায় আমি সুস্থ হয়ে উঠছি। পরেও ওই চিকিৎসকের কাছে ‘চেক আপে’ যেতে হবে। সেই কারণে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে যাইনি।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, ‘নন প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ নেওয়ার পর কোনওভাবেই সরকারি চিকিৎসকরার প্রাইভেট চেম্বার করতে পারেন না। এমনকী, ওই ভাতা না নিলেও চেম্বারে রোগী দেখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়। তাছাড়া রোগীর প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকার নিয়ম রয়েছে। ওষুধের দোকানের প্যাডে কেউ রোগী দেখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মেডিক্যালের কোনও চিকিৎসক ওই ধরনের কাজ করছেন কি না, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।
সম্প্রতি বাঁকুড়া-২ ব্লকের বিকনা এলাকার বাসিন্দা বছর সাতাত্তরের এক বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি শহরের এক চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক সরকারি চাকরি করেন বলে বৃদ্ধের দাবি। চিকিৎসক ওই বৃদ্ধকে বাঁকুড়া শহরেরই একটি ওষুধের দোকানের প্যাডে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। প্রেসার মেপে তার উপরেই লিখে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল টেস্ট এবং ওষুধের নাম ও খাওয়ার নিয়মকানুন লেখেন ওই চিকিৎসক। চিকিৎসকের চেম্বারের পাশেই ওই ওষুধের দোকানটি রয়েছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই বৃদ্ধ বলেন, সরকারি চিকিৎসক হওয়ার কারণেই তিনি নিজের নাম ও রেজিস্ট্রেশন প্রেসক্রিপশনে লেখেননি বলে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানের কর্মীরা আমাকে জানিয়েছেন। তবে চিকিৎসায় আমি সুস্থ হয়ে উঠছি। পরেও ওই চিকিৎসকের কাছে ‘চেক আপে’ যেতে হবে। সেই কারণে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে যাইনি।



