নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুর এখন এডুকেশন হাব। গড়ে উঠেছে নামী স্কুল, একাধিক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেই সূত্রে গড়ে উঠছে নামকরা সংস্থার কোচিং সেন্টার। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে তেমনি একটি নামকরা কোচিং সেন্টারে ক্লাস বন্ধকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল রবিবার। চলল দফায় দফায় বিক্ষোভ। বার বার আসতে হল পুলিসকে। অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কয়েক মাস ধরেই দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই সংস্থার কোচিং সেন্টারগুলিতে টালমাটাল অবস্থা। তা সত্ত্বেও লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি নিয়ে গিয়েছে সংস্থাটি। তারপর এখন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্লাস বন্ধের বার্তা মোবাইলে পাঠানো হয়েছে। এটা মানা যায় না।
Advertisement
অভিযোগকারীদের মধ্যে অনেকেই আবার প্রশাসনের শীর্ষপদে রয়েছেন। ফলে, বিক্ষোভ-আন্দোলন অন্যমাত্রা পায়। কেউ স্কুল ইন্সপেক্টর। কেউ আবার ব্লকের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক। ছেলে, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সকালে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। এদিন সকাল থেকেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার সরগরম। এখানেই রয়েছে দেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়ে থাকা নামকরা সংস্থার কোচিং সেন্টার। উচু ক্লাসের পড়াশোনোর কোচিং দেওয়ার পাশাপাশি এই সংস্থাটি বিভিন্ন স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য কোচিং করায়। মূলত আইআইটিতে সুযোগ পাওয়ার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটা সময়ে যথেষ্ট খ্যাতি ছিল এই সংস্থার। স্বাভাবিক ভাবেই ছেলে, মেয়েকে আইআইটিতে পড়ানোর স্বপ্ন দেখা বাবা, মা ছোট থেকেই নিজের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতেন। মাসে ফি হাজার হাজার টাকা। পুরো প্যাকেজের খরচ কয়েক লক্ষ টাকা। সেই সংস্থারই সিটি সেন্টারের কোচিং সেন্টারে কয়েক মাস ধরেই বেহাল। বহু শিক্ষক সংস্থা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তা সত্ত্বেও এখানকার সেন্টার ইনচার্জ সব সামলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে গিয়েছেন। সম্প্রতি সেন্টার ইনচার্জ পড়ুয়াদের এসএমএস করে জানিয়ে দেন তিনি সংস্থা ছেড়ে দিচ্ছেন। তারপরই অনির্দিষ্ট কালের জন্য কোচিং ক্লাস বন্ধ থাকার নোটিস পাঠানো হয়। শিক্ষিত অভিভাবকদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি, পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। রবিবার ছুটির দিনের তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। সেন্টার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এমনকী তাঁর বাড়িতেও দেখা মেলেনি।
অভিভাবক শান্তনু মুখোপাধ্যায়, পম্পা পালরা বলেন, সামনেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রয়েছে। আমাদের টাকা ফেরত চাই। সরকারি উচ্চপদে কর্মরত অভিভাবক বিশ্বদীপ রক্ষিত বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে এভাবে ছেলে খেলা করতে দেব না। সেন্টারের আধিকারিক ব্রজগোপাল ঘোষ বলেন, আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দেবে। পুলিস জানিয়েছে, মাস পিটিশন জমা করেছেন অভিভাবরা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিভাবক শান্তনু মুখোপাধ্যায়, পম্পা পালরা বলেন, সামনেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রয়েছে। আমাদের টাকা ফেরত চাই। সরকারি উচ্চপদে কর্মরত অভিভাবক বিশ্বদীপ রক্ষিত বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে এভাবে ছেলে খেলা করতে দেব না। সেন্টারের আধিকারিক ব্রজগোপাল ঘোষ বলেন, আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দেবে। পুলিস জানিয়েছে, মাস পিটিশন জমা করেছেন অভিভাবরা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



