Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিলামে কমছে চায়ের দাম, মরশুম শেষের মুখে সঙ্কট

নিলামে কমছে চায়ের দাম, মরশুম শেষের মুখে সঙ্কট
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নিলামে কমছে উত্তরবঙ্গের চায়ের দাম। ভালো মানের চা উৎপাদন করেও তা ফেলে রাখতে হচ্ছে। দাম না মেলায় মাসের পর মাস ধরে চা বিক্রি করতে পারছেন না বটলিফ ফ্যাক্টরির মালিক কিংবা বাগান মালিকরা। কখনও আবার মজুত চা খালি করতে কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। মরশুম শেষের মুখে ডুয়ার্সের গুঁড়ো চায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে সঙ্কট। 
Advertisement
ক্ষুদ্র চা চাষিদের অবশ্য বক্তব্য, কাঁচা পাতার দাম কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তৈরি চায়ের উপর। এজন্য বটলিফ ফ্যাক্টরির একাংশ দায়ী। তারা মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০টাকা কেজি থেকে কাঁচা চা পাতার দাম কমিয়ে ১৫-১৬ টাকা করে দিয়েছে। কম দামে পাতা কিনে অনেক বেশি পরিমাণে চা তৈরি করছে তারা। কিন্তু বাজারে অত চায়ের চাহিদা না থাকায় দাম মিলছে না। বটলিফ মালিকদের অবশ্য বক্তব্য, অসমেও পাতার দাম কমেছে। চা বিক্রি নেই। দাম দিয়ে কাঁচা পাতা কিনব কীভাবে?
তথ্য বলছে, শিলিগুড়িতে প্রতিটি নিলামে তার আগেরবারের থেকে সিটিসি চায়ের দাম কমছে। কয়েকদিন আগে ৪৪ নম্বর অকশন হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভালো মানের চা, যার কেজি ২৮০ টাকা বা তার বেশি, এমন চা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮শতাংশ। অথচ ৪২ নম্বর অকশনে ওই চা বিক্রি হয়েছিল ১২ শতাংশ। অর্থাৎ, মরশুম যত শেষের দিকে এগচ্ছে, ততই নিলামে চায়ের বিক্রি কমছে। উত্তরের চা ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে ১৪ নম্বর থেকে ২৫নম্বর নিলাম পর্যন্ত সিটিসি চায়ের দাম বাড়ছিল। তারপর থেকেই দাম পড়তে থাকে, সঙ্গে বিক্রিও।
শিলিগুড়ি টি অকশন কমিটির চেয়ারম্যান মহেন্দ্র বনসাল বলেন, কয়েকটা কোম্পানি দেশের চায়ের বাজারকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তারা বাগানগুলিকে ভালো মানের চা তৈরি করতে বলছে। অথচ দাম দিয়ে কিনছে না। এতেই সঙ্কট বাড়ছে। ভালো মানের চা তৈরি করেও দাম না পেয়ে ফেলে রাখতে হচ্ছে। কিংবা কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। উত্তরের সিটিসি চায়ের দাম না মেলার পিছনে নেপাল থেকে কম দামের চা ঢুকে যাওয়াও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর বক্তব্য, পুজোর পরও ৩০টাকা কেজি দরে কাঁচা চা পাতা বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে কিছু বটলিফ ফ্যাক্টরির মালিক নিজেদের মর্জিমতো পাতার দাম কমিয়ে দেন। কয়েকদিন আগে ১১টাকা কেজিতে পাতা বিক্রি করতে হয়েছে। এখন পাতার দাম ১৫-১৬ টাকা। কাঁচা পাতার দাম কমে যাওয়ায় তৈরি চায়ের দাম কমেছে। কারণ, যারা নিলামে চা কেনেন, তারা জানেন কত টাকা কেজি দরে কাঁচা পাতা কেনা হচ্ছে, তার সঙ্গে তৈরির খরচ যোগ করেই চায়ের দাম নির্ধারণ হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ