Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলহাটিতে রেল অবরোধ নাগরিক মঞ্চের

নলহাটিতে রেল অবরোধ নাগরিক মঞ্চের
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘নলহাটি জংশন। নেই কোনও এক্সপ্রেস ট্রেনের ফাংশন’। এমনই স্লোগান তুলে রবিবার সকালে প্ল্যাকার্ড হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে রেল অবরোধে শামিল হল নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। পরে তারা দাবি সম্বলিত ফ্লেক্স হাতে বিক্ষোভ দেখায়। ফলে বন্দে ভারত সহ নানা এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজনকে আন্দোলনে শামিল হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেল পুলিসের বিরুদ্ধে। নাগরিকদের আন্দোলনে পুরোভাগে ছিলেন এলাকার তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং। দেড় ঘণ্টা পর এডিআরএম ও সিনিয়র ডিসিএম এসে আলোচনায় বসার আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। এক মাসের মধ্যে ফের বড়সড় অবরোধের হুমকি দিয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মঞ্চের সদস্যরা।
Advertisement
দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগের অন্যতম নলহাটি জংশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। অধিকাংশ ট্রেনের স্টপেজ নেই। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে নির্ভর করতে হয় ১৫কিমি দূরের রামপুরহাট জংশনের উপর। এর আগে বিভিন্ন ট্রেনের স্টপেজ সহ নানা দাবিতে চলতি বছরে দু’বার রেল অবরোধের ডাক দেয় নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। কিন্তু রেলের আশ্বাসে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। ২১ জানুয়ারি রেল অবরোধের ডাক দিয়েছিল নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। কিন্তু এই এক বছরের মধ্যে আপ গৌড় এক্সপ্রেসের স্টপেজ ও করোনাকালে বন্ধ নলহাটি-আজিমগঞ্জ লোকাল চালু ছাড়া বাকি দাবি পূরণ করেনি রেল। বারবার চিঠি দিলেও মেলেনি উত্তর। এদিন আগাম ঘোষণামতো সকাল থেকে রেল অবরোধ শুরু হয়। তাদের দাবি, এই জংশনে আপ ও ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, কুলিক ও ডাউন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের স্টপেজ দিতে হবে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনের উন্নয়ন ও করোনাকালে বন্ধ থাকা ট্রেন চালু করতে হবে। রেল পুলিস ও কর্তারা মৌখিকভাবে নানা আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তোলার চেষ্টা চালান। সেইসঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিতে আসার পথে বাধা দেওয়া হয় অনেককে। যদিও বাধা উপেক্ষা করে প্রচুর মানুষ অবরোধে শামিল হন। বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই আন্দোলনে শামিল হতে দেখা গিয়েছে। অবরোধের জেরে রামপুরহাট জংশনে ৪০মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয় হাওড়া নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত, নলহাটি ঢোকার মুখে সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ছাড়াও বিভিন্ন স্টেশনে নানা দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর রেলকর্তারা জানান, এডিআরএম ও সিনিয়র ডিসিএম রাহুল রঞ্জন মঞ্চের সঙ্গে আলোচনার জন্য আসছেন। অবরোধ তুলে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। তা মেনে নিয়ে বিধায়ক মাইক হাতে অররোধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান চলে। এরপরই আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। 
দুপুর নাগাদ এডিআরএম এবং সিনিয়র ডিসিএম মঞ্চের সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক ধরে আলোচনা চললেও ফলপ্রসূ হয়নি। মঞ্চের সভাপতি সনকা বিশ্বাস, সম্পাদক অশোক চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র ডাউন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের স্টপেজের মৌখিক আশ্বাস ছাড়া কোনও দাবি মানতে চাননি তাঁরা। শেষমেশ কুলিকের বদলে রামপুরহাট-শিয়ালদহ মা তারা এক্সপ্রেসকে নলহাটি পর্যন্ত চালানোর দাবি করা হয়। কিন্তু তাও মানা হয়নি। ক্ষুব্ধ মঞ্চের সদস্যরা এক মাসের মধ্যে ফের অবরোধের হুমকি দিয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। যদিও এনিয়ে এডিআরএম সংবাদ মাধ্যমে কিছু বলতে চাননি।
সম্পর্কিত সংবাদ