Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলহাটিতে অবৈধ পাথর খাদান ধসে মৃত্যু শ্রমিকের, জখম এক, জানেই না প্রশাসন

নলহাটিতে অবৈধ পাথর খাদান ধসে মৃত্যু শ্রমিকের, জখম এক, জানেই না প্রশাসন
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফের পাথর খাদানে ঘটল দুর্ঘটনা। নলহাটির বাহাদুরপুর শিল্পাঞ্চলে অবৈধ পাথর খাদানের ধসে নীচে পড়ে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও এক শ্রমিক। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম মোশারফ হোসেন (২৯)। বাড়ি নলহাটি থানার বাগানপাড়া গ্রামে। জখম শ্রমিকের নাম মাঞ্জারুল শেখ (৩০)। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের পাকুরে। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদানটির উচ্চতা দুশো ফুটেরও বেশি। শুক্রবার দুপুরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ৪০ ফুট উচ্চতায় কাজ করছিলেন। আচমকা ধস নামতে শুরু করে। সেই সময় একটি পাথর মোশারফের মাথায় লাগলে তিনি নীচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাথরের আঘাতে অপর শ্রমিকের মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পাথরের খাঁজে বসে পড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, এবছর এখনও পর্যন্ত এভাবে ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন দশজনেরও বেশি। তাঁদের কেউ কেউ পঙ্গু হয়ে বাড়িতে পড়ে রয়েছেন। একের পর এক ঘটনায় পাথর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠলেও উদাসীন প্রশাসন। শ্রমিকদের ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করতে হয়। তার জেরে দুঘর্টনায় শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল লেগেই রয়েছে। আর মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীরা। এঁদের অনেকেই বহিরাগত। প্রশাসনেরও এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যায় না। 
এব্যাপারে নলহাটি ১ ব্লকের বিডিও সৌরভ মেহেতা বলেন, এই সংক্রান্ত কোনও খবর আমার কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদিও ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পুলিস প্রশাসনের কাছ পর্যন্ত বিষয়টি আসেই না। নিজেরাই বসে মিটমাট করে শ্রমিকের মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া হয়। তাছাড়া বিডিওর এলাকা হলেও পাথর শিল্পাঞ্চল তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বীরভূম জেলার ২১৭টি খাদানের মধ্যে ২১১টি পরিবেশ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। খাতায় কলমে সেগুলি বন্ধ থাকলেও বেশিরভাগই চলছে। আর ফুলেফেঁপে উঠছে অবৈধ কারবারিরা। অর্থ ছড়িয়েই পুরো শিল্পাঞ্চল তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 
সম্পর্কিত সংবাদ