নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ওকে খুন করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। ও বেঁচে থাকলে চোখের সামনে আমার নিকট আত্মীয়কে তিলে তিলে মরতে দেখতাম। ও আমার উপর কয়েক বছর ধরে অত্যাচার চালায়। তা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু, নিকট আত্মীয়র ক্ষতি করার চেষ্টা কোনওভাবেই মানতে পারিনি। সেই কারণেই ওকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছি। কেউ যাতে আগামী দিনে এধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়, তারজন্যই ওকে রাস্তায় সবার সামনে কোপানো হয়েছে। কালনায় যুবককে রাস্তাতেই কুপিয়ে খুনের ঘটনায় জেরায় ধৃত গৃহবধূ পুলিসকে এমনটাই জানিয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, নৃশংসভাবে খুন করার পরও ওই গৃহবধূকে আফশোস করতে দেখা যায়নি। শুধু বলে যাচ্ছে, আমার জেল হোক অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার ওই আত্মীয় বেঁচে যাবে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের শরীরে ১০ থেকে ১২টি কোপ মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সে লুটিয়ে পড়লেও তার উপর কোপ মারা হয়। গৃহবধূর রুদ্রমূর্তি দেখে কেউ তাকে বাধা দেওয়ার সাহস দেখায়নি। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূ কয়েক দিন আগেই প্রেমিককে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। বাড়িতে আগে থেকেই হাঁসুয়া এনে রাখা ছিল। ঘটনার দিন সে সেটা হাতে নিয়েই বের হয়। রাস্তায় পথ আটকে সে শামিম মণ্ডলের উপর এলোপাথাড়ি কোপ মারে। ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়ে। অভিযুক্ত নয়ন ক্ষেত্রপাল সেদিনই পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তার পরিবারের লোকজনদের দাবি, শামিম নয়নের উপর অত্যাচার সম্প্রতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সেই কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও শামিমের পরিবারের দাবি, তাদের মধ্যে দিদি-ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শামিম মণ্ডলের সঙ্গে নয়নের প্রায় সাত থেকে আট বছরের সম্পর্ক ছিল। নয়ন তাকে আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করেছিল। বাড়ির লোকজনও সেটা জানতেন। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু শামিমের কুনজর নয়নের এক আত্মীয়র উপর পড়ায় তাদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়। নয়ন তা কোনওভাবেই মানতে পারেনি। তারজন্য শামিম তাকে বারবার হুমকিও দিয়েছিল। তার বাপেরবাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও অত্যাচার করত বলে অভিযোগ। এলাকার লোকজনও বিষয়টি জানতে পারেন। শামিম এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। কালনার মহকুমা পুলিস আধিকারিক রাকেশ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শামিম মণ্ডলের সঙ্গে নয়নের প্রায় সাত থেকে আট বছরের সম্পর্ক ছিল। নয়ন তাকে আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করেছিল। বাড়ির লোকজনও সেটা জানতেন। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু শামিমের কুনজর নয়নের এক আত্মীয়র উপর পড়ায় তাদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়। নয়ন তা কোনওভাবেই মানতে পারেনি। তারজন্য শামিম তাকে বারবার হুমকিও দিয়েছিল। তার বাপেরবাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও অত্যাচার করত বলে অভিযোগ। এলাকার লোকজনও বিষয়টি জানতে পারেন। শামিম এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। কালনার মহকুমা পুলিস আধিকারিক রাকেশ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি যাচাই করা হচ্ছে।



