নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বর্ষা বিদায় নিয়েছে মাস ছয়েক আগে। এখনও পানিহাটিতে বি টি রোডের সার্ভিস রোড জলে ভাসছে! নোংরা জলে পা না ডুবিয়ে রাস্তার ধারে বিশ্রামাগার বা দোকনিগুলিতে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। সার্ভিস রোডের ওই অংশ দিয়ে যান চলাচলও বন্ধ। বর্ষার সময় থেকে একভাবে জল দাঁড়িয়ে থাকায় কচুরিপানা ভরে গিয়েছে। রাশি রাশি আবর্জনা প্রায় ভরাট করে ফেলেছে বি টি রোডের দু’পাশের নিকাশি। গত কয়েক মাস ধরে এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করছেন পানিহাটির বাসিন্দারা। অবশেষে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হল নগরোন্নয়ন দপ্তর। পানিহাটি শহরে বি টি রোডের দু’দিকের নিকাশির পলি ও আবর্জনা তুলতে এক কোটির বেশি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশায় বুক বাঁধছে শহরবাসী।
Advertisement
কামারহাটির দিক থেকে বি টি রোড ধরে পানিহাটির দিকে এগলে ঐতিহ্যবাহী বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা। কারখানার সামনে সার্ভিস রোডের সিংহভাগ অংশ নোংরা জলে ডুবে রয়েছে। বেঙ্গল কেমিক্যাল কো-অপারেটিভের অফিস, বাসস্ট্যান্ডের সামনে সেই বর্ষার সময় থেকেই জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার উপর বেড়ে উঠেছে কচুরিপানা। সেখান থেকে সামনের দিকে যত এগনো যাবে, সার্ভিস রোডের অবস্থা ততই বেহাল। এই অংশ দিয়ে কোনও গাড়ি চলাচল করছে না। বিটি রোড লাগোয়া নিকাশিও আবর্জনা ও জলে ভর্তি। সেই জল উপচে এসেও ভাসাচ্ছে সার্ভিস রোড। ওই নিকাশির সঙ্গে পুরসভার ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বহু ছোট নালা বা নিকাশি যুক্ত রয়েছে। কিন্তু মূল নিকাশিরই এমন বেহাল অবস্থা হওয়ায় সংযোগকারী ছোট নিকাশিগুলি দিয়েও জল আসছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে এতগুলি ওয়ার্ডেই রাস্তা নোংরা জলে ভাসছে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য যে বিপুল খরচ করতে হতো, পুরসভার সেই সামর্থ্য ছিল না। কয়েক মাস আগে জেসিবি এনে সার্ভিস রোডের আবর্জনা সরানো হলেও জল বেরয়নি। সমস্যা তীব্র হওয়ায় পুরসভার তরফে নগরোন্নয়ন দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়। সম্প্রতি, সোদপুর গির্জা মোড় থেকে আগরপাড়া পর্যন্ত বি টি রোডের দু’দিকের নিকাশির আবর্জনা ও পলি তুলতে আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে নগরোন্নয়ন দপ্তর। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৫৬ টাকা। পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায় বলেন, ‘নগরোন্নয়ন দপ্তর এক কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ করেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ -নিজস্ব চিত্র



