Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নকল গয়না দিয়ে ঋণ, প্রতারকদের খোঁজে পুলিস, বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ক্ষতি ৩২ লক্ষ

চকচক করলেই যে সোন হয় না, সে কথা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের কর্মীরা। কারণ, সোনার জল করা গয়না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সেই ঋণ শোধ করছে না কিছু প্রতারক।

নকল গয়না দিয়ে ঋণ, প্রতারকদের খোঁজে পুলিস, বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ক্ষতি ৩২ লক্ষ
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চকচক করলেই যে সোন হয় না, সে কথা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের কর্মীরা। কারণ, সোনার জল করা গয়না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সেই ঋণ শোধ করছে না কিছু প্রতারক। তারা ব্যাঙ্কের কর্মীদের বোকা বানিয়ে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। কিন্তু যে সোনার গয়না দিয়ে তারা ঋণ নিয়েছে সেই সোনার গয়না নকল কিনা, তা ভালোভাবে পরীক্ষা কেন করা হল না, উঠছে সেই প্রশ্ন। নকল গয়না দেখিয়ে ঋণ নিয়ে তা শোধ না করায় ব্যাঙ্কের দু’টি শাখার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা। পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন দু’টি শাখার আধিকারিকরা।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুরের বাজারপাড়ার বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের শাখা থেকে প্রায় বছর তিনেক আগে সোনা দিয়ে ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়। গ্রাহকরা যে সোনা জমা রেখেছিল তা এতদিন ব্যাঙ্কের লকারেই গচ্ছিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ইন্সপেকশন করার সময়ে দেখা যায় গয়নাগুলি সবই নকল। ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা বিশেষজ্ঞদের এনে তা যাচাই করে দেখেছেন। তারপর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। 
অপরিদকে, বহরমপুর শহরের বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও ঋণ গ্রহিতার জমা করা সোনার গয়না নকল বলেই অভিযোগ জমা পড়েছে থানায়। এই গয়না জমা রেখে মোট ১৫ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্কের তরফে। এর ফলে ব্যাঙ্কের বর্তমানে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। সেই ক্ষতির কথা উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বহরমপুর থানায়। 
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের দু’টি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের তরফে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। নকল সোনার গয়না দেখিয়ে ওই দু’টি শাখা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। আমরা মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। প্রতারকদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
দুই ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা বলেন, একটি ব্রাঞ্চে ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং অপর ব্রাঞ্চে ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। যখন সোনার গয়না জমা দিয়ে ঋণের আবেদন করে গ্রাহক, তখন সেই গয়না আগে থেকে যাচাই করে সার্টিফায়েড করে তবেই ঋনের অর্থ ধার্য হয়। সেই গয়না ভ্যালু করার কাজ করেছিল ব্যাঙ্কের কিছু অস্থায়ী কর্মী। সে সময় কীভাবে গয়না যাচাই করা হয়েছিল তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিস এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিস জানিয়েছে, দুইভাবে এই ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমত ঋণ দেওয়ার সময়ে যারা গয়নার ভ্যালু নির্ণয় করেছিল, তারাই গরমিল করে থাকতে পারে। নতুবা পরবর্তীতে ব্যাঙ্কের লকার থেকে গয়না পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ভ্যালু নির্ণয়ের সময়ে গরমিল করে থাকলে তা পরবর্তী বছরেই অডিটে ধরা পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু অডিটে কোনও গরমিল ধরা পড়েনি। অথচ এখন ব্যাঙ্কের তরফে নকল গয়নার অভিযোগ জমা পড়ছে। যেভাবেই গরমিল হয়ে থাকুক, সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। প্রথমেই ভ্যালুয়ারদের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিস।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ