রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: ছবিটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ১৩ নভেম্বর ভোটের দিন সকালে। সিতাই বিধানসভা উপ নির্বাচনের ভোটে বিজেপির ভরাডুবি যে সময়ের অপেক্ষা, তার ইঙ্গিতও মিলেছিল সেদিন। কারণ গোটা বিধানসভা জুড়ে গেরুয়া শিবিরের ছন্নছাড়া ছবি স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। তারা ৯০ শতাংশ বুথে এজেন্টই দিতে পারেনি। শনিবার ভোট গণনার পর সিতাই বিধানসভায় ‘তৃণমূল সুনামিতে’ কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে গেল বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী দীপক রায়কে ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৩৫ হাজারের একটু বেশি ভোট।
Advertisement
শুধু তাই নয়, খোদ বিজেপি প্রার্থী তাঁর নিজের বুথ পূর্ব সিতাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বড় ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী নিজের বুথে পেয়েছেন ১১৩ ভোট। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর ঝুলিতে ৪৩৫ ভোট। ফল ঘোষণা হতেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা সবুজ আবির মেখে উল্লাসে মেতে ওঠেন। তৃণমূলের দাবি, লোকসভার পর এবার উপ নির্বাচনে বিজেপি যেভাবে পর্যুদস্ত হল, তাতে এখন আতস কাচ দিয়ে খুঁজতে হবে কোচবিহার জেলায়। কেননা শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজ, আবাসের টাকা না দেওয়ায় গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই গ্রামের মানুষ এবার ইভিএমে জবাব দিয়েছেন যদিও শোচনীয় হারের কারণের কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বিজেপি শিবির থেকে। বিজেপি প্রার্থী বলেন, তৃণমূলের লাগামহীন চাপা সন্ত্রাস, হুমকি উপেক্ষা করে কিছু মানুষ ভোট দিতে পারলেও অধিকাংশ আসতেই পারেননি। পোলিং এজেন্টদের হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বুথে যেতে দেয়নি তৃণমূল। যদিও বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায় বলেন, বিজেপি প্রার্থী তো নিজের বুথেই এজেন্ট দিতে পারেননি। তাঁদের সঙ্গে মানুষ নেই। মানুষ কেন্দ্রের বঞ্চনার জবাব ইভিএমে দিয়ে সিতাই থেকে বিজেপিকে সাফ করে দিয়েছেন।



