সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রেলের উচ্ছেদ নোটিশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এনজেপি। এডিআরএম অফিসের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দোকান মালিকদের উচ্ছেদ নোটিশ ধরানোয় আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের প্রতিবাদে তাঁরা টানা ন’দিন ধরে আন্দোলন করে চলেছেন। মহিলারাও তাতে শামিল হয়েছেন।
এর মধ্যেই শনিবার আরপিএফের তরফে চরম সময়সীমা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্না মঞ্চে এসে তারা জানিয়ে গিয়েছে, রবিবারের মধ্যে দোকানপাট সরিয়ে না নিলে সোমবার সব দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হবে। একথা শোনার পর ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদের প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আজ এলাকায় গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছেন সকলে।
গত বৃহস্পতিবার এলাকার বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ব্যবসায়ীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রেলের এই উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন আন্দোলন মঞ্চের দূরে দাঁড়িয়ে পরিচিত এক-দু’জন ব্যবসায়ীকে ডেকে কথা বলে বেরিয়ে যান। তাই বিজেপি বিধায়কের আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
এনজেপি থানা মোড়ের ব্যবসায়ীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে শিলিগুড়ি বৃহত্তর খুচরা ব্যবসায়ী সমিতি। গত ২২ অক্টোবর সংগঠনের তরফ এনজেপিতে এডিআরএম’কে স্মারকলিপি দিয়ে উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি পরিমল মিত্র বলেন, স্মারকলিপি দেওয়ার সময় এডিআরএম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গোটা বিষয়টি জানিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনায় বসার পরিবর্তে আরপিএফ উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে যাওয়ায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যদি গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা হয় আমরা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দিয়েই উচ্ছেদ করতে হবে।
এদিকে, বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। তার উত্তরের অপেক্ষায় আছি। ব্যবসায়ী দেবোত্তম ঝা বলেন, আমরা কোনও রাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলন করছি না। বিধায়ক সকলের। এদিন তিনি ধর্না মঞ্চ থেকে দূরে দাঁড়িয়ে যেভাবে কয়েকজনকে ডেকে কথা বললেন তাতে আমরা হতাশ। তাঁকে মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তিনি আসেননি।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরাও উন্নয়নের পক্ষে। কিন্তু ২৫টি দোকান তুলে দিয়ে সেখানে কোচ রেস্তরাঁ করাটা কোন উন্নয়ন? টাকা লাগলে তাঁরা টাকা দিতেও রাজি আছেন। রেলের অনেক ফাঁকা জমি আছে। দরকার হলে সেখানে পুনর্বাসন দিতে হবে। এদিকে, এডিআরএম অফিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রেল কাউকে তার জমিতে বসায়নি। পুনর্বাসনের দায়িত্ব রেলের নয়। রেল তার জমি উদ্ধার করবে। আন্দোলনে ব্যবসায়ীরা। - নিজস্ব চিত্র।