নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়ে দুর্গাপুর থেকেই রাজ্য সফর শুরু করলেন নীতিন নবীন। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রক দল বিজেপির সভাপতির প্রথম ভাষণের দিকে শুধু বাংলা নয়, তাকিয়ে ছিল গোটা দেশও। শিল্পশহর দুর্গাপুরে সভা স্বাভাবিকভাবেই শিল্প গড়া নিয়ে তাঁর কী ভাবনা, তা শোনার অপেক্ষায় ছিল আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে সামনের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দাবি, তারা সরকার গড়বে। স্বাভাবিকভাবেই সেই দলের সভাপতির শিল্পাঞ্চলে দেওয়া বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, এনিয়ে শহরবাসীকে হতাশ করেছেন বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি। দুর্গাপুর নিয়ে কোনও আশার খবর না দিয়ে শুধুই তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেন।
তিনি বলেন, আমরা যখন পড়ুয়া ছিলাম তখন যে কয়েকটি শহরে কাজ করতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। তার মধ্যে দুর্গাপুর অন্যতম ছিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে মানুষ দুর্গাপুরে কাজ করতে ও পড়তে আসত। দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চল দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত। এখন সেখানে কোনও শিল্প নেই। মুখ্যমন্ত্রী আপনি বন্ধ শিল্প খোলার স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। আপনার আমলে কোনও শিল্প তো খোলেনি উল্টে কারখানা বন্ধ হয়েছে। শিল্পায়ন নিয়ে তৃণমূলের ভূমিকার সমালোচনা করলেও দুর্গাপুর বন্ধ কেন্দ্রীয় সরকারি কারখানাগুলি খোলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি নীতিনবাবু।
এদিন তিনি দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার ধর্ষণ প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আড়াল করছে রাজ্য সরকার। এমনকী সাক্ষীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে সেই নির্যাতিতা দুর্গাপুরেই পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনকী বিজেপির মাধ্যমে নির্যাতিতার আইনজীবী নিযুক্ত হওয়া পার্থ ঘোষও মামলায় সরকারি আইনজীবী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, নীতিন নবীনের হোমওয়ার্ক খুব দুর্বল। এটা বাংলা, মেয়েদের প্রতি অত্যাচার হলে অভিযুক্তরা ছাড়া পায় না। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে রুগ্ন করার পিছনে বিজেপি সরকারের বড় অবদান আছে। তাঁদের ক্ষমতায় থাকাকালীনই এমএএমসি কারখানা বন্ধ হয়েছে। দেশের অন্যত্র বন্ধ সার কারখানা খোলা হলেও দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের সার কারখানা কেন খোলা হল না, নীতিনবাবু তার জবাব দিন।-নিজস্ব চিত্র